অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান প্রসব কমাতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে তুরস্ক

অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান প্রসব কমাতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে তুরস্ক

প্রতিকী ছবি

তুরস্কে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান প্রসব কমাতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শতাধিক প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞকে জরিমানা করেছে।পাশাপাশি তাদের সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পুনঃপ্রশিক্ষণে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, সদস্য ৩৮টি দেশের মধ্যে তুরস্কে সিজারের মাধ্যমে প্রসবের হার সবচেয়ে বেশি। প্রতি এক হাজার জীবিত জন্মের মধ্যে প্রায় ৬১৫টি সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে হয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, স্বাভাবিক প্রসবের তুলনায় সিজার অনেক কম সময়ে শেষ করা যায়। এতে জটিলতা ও আইনি ঝুঁকিও কম থাকে। তাই অনেক চিকিৎসক এই পদ্ধতি বেছে নেন।

তবে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সরকার জন্মহার বাড়ানোর লক্ষ্যে ডিকেড অব দ্য ফ্যামিলি কর্মসূচির আওতায় স্বাভাবিক প্রসবকে উৎসাহ দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছাড়া বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান প্রসব নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিজারিয়ানের হার বেশি হওয়ায় শতাধিক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এতে চিকিৎসকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

আন্তালিয়া চেম্বার অব ফিজিশিয়ানস জানিয়েছে, অনেক চিকিৎসককে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে, শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্তের মুখোমুখি করা হয়েছে, সাময়িকভাবে চিকিৎসাসেবা থেকে বিরত রাখা হয়েছে এবং বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, ইস্তাম্বুলের কাছে সাকারিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালের এক চিকিৎসককে উচ্চ সিজারিয়ান হারের কারণে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাকে ছয় মাসের জন্য চিকিৎসা কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়েছে। এই সময়ে তাকে সরকারি হাসপাতালে প্রশিক্ষণ নিতে হবে এবং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই আবার চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অনুমতি পাবেন।

তুর্কি মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা ডা. আয়শে গুলতেকিনগিল বলেছেন, শুধু চিকিৎসকদের শাস্তি দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। তার মতে, তুরস্কে সিজারিয়ানের উচ্চ হার দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থার একটি কাঠামোগত সমস্যা।