গার্লস কলেজে শিক্ষকতা করায় জেলা জামায়াতের সেক্রেটারিকে অব্যাহতি
সংগৃহীত ছবি
নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (গার্লস কলেজ) শিক্ষকতা করার কারণে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি পদ থেকে সুজাউদ্দিন জোয়ার্দারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার শূন্য পদে নতুন সেক্রেটারি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন শহর শাখার আমির মো. এনামুল হক। সোমবার রাতে জেলা জামায়াতের এক বিজ্ঞপ্তিতে নেতৃত্ব পরিবর্তনের এই আনুষ্ঠানিক তথ্য জানানো হয়।
দলীয় সূত্র জানায়, সোমবার জেলা কর্মপরিষদের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই সাংগঠনিক রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা জামায়াতের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ওই বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোনো পুরুষ সদস্য বা ‘রুকন’ দলীয় কোনো পদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। গঠনতন্ত্রের এই বিধির কারণেই সুজাউদ্দিন জোয়ার্দারকে পদ থেকে সরিয়ে এনামুল হককে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির খন্দকার এ কে এম আলী মহসিন জানান, এটি সংগঠনের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত। এই নির্দেশনার আলোকে নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত সারা দেশের মোট সাতজন নেতাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় কুষ্টিয়া জেলায় শূন্য হওয়া পদে তাৎক্ষণিকভাবে শহর জামায়াতের আমিরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
অব্যাহতি পাওয়া সুজাউদ্দিন জোয়ার্দার কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বাগোয়ান ডক্টর ফজলুল হক গার্লস কলেজের একজন শিক্ষক। পদ হারানোর বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি জানান, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হওয়ার অনেক আগেই তিনি ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। তখন গঠনতন্ত্রের এই নির্দিষ্ট ধারাটি শিথিল থাকায় তার পদ পেতে কোনো বাধা ছিল না।
দলীয় এই সিদ্ধান্তে নিজের কোনো ক্ষোভ বা আক্ষেপ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি সারা দেশের রুকনদের জন্যই কেন্দ্রীয় কমিটির একটি সম্মিলিত সিদ্ধান্ত। তাই এ নিয়ে আমার মনে কোনো কষ্ট নেই।’ তবে ভবিষ্যতে শিক্ষকতার পেশা ছেড়ে দিলে তাকে পুনরায় স্বপদে বহাল করার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান এই নেতা।