উজানের ঢলে ভেসেছে গোমতীর চরের কৃষকের স্বপ্ন

উজানের ঢলে ভেসেছে গোমতীর চরের কৃষকের স্বপ্ন

ফাইল ছবি

 

ভারতের পাহাড়ি ঢলে গোমতী নদীর পানি বেড়ে ডুবে গেছে চরের বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। ডুবে গেছে বুড়িচং ও আদর্শ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকের সবুজ স্বপ্ন। ক্ষতিগ্রস্ত সবজির মধ্যে রয়েছে লাউ, চিচিঙ্গা, মুলা, ডাঁটা শাক, মিষ্টি কুমড়া, চালকুমড়া, করলা, ধুন্দুল, পুঁইশাকসহ বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি সবজি।

কৃষি অফিসের তথ্যমতে,জেলার উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে গোমতীর চরের সবজির।

৫১২ হেক্টর জমির সবজি নষ্ট হয়েছে। উপজেলা হিসেবে বুড়িচং উপজেলার বেশি ক্ষতি হয়েছে। তারপরে রয়েছে আদর্শ সদর উপজেলা।

পানিতে আক্রান্ত হয়েছে ২০২১ হেক্টর জমির রোপা আমন।

এছাড়া রোপা আমনের বীজতলা ৭০ হেক্টর ও ৬হেক্টর জমির মরিচ। তবে আজকাল আর ভারী বৃষ্টি না হলে ক্ষতির পরিমাণ ৫শতাংশের বেশি হবে না।

সরেজমিন গোমতী নদীর বুড়িচং উপজেলার বালিখাড়া, ভান্তি ও কামারখাড়া, কুমিল্লা সদর উপজেলার কাচিয়াতলী ও আমতলী এলাকার চরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, গত এক সপ্তাহ আগেও যেখানে কৃষকের খেতে সবুজ সবজির হাসি ছিলো আজ সেখানের বাতাসে ভাসছে কৃষকের আর্তনাদ।

কাচিয়াতলী চরের কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, এক শত জমিতে করলা, চিচিঙ্গা, দুন্দুল ও মিষ্টি কুমড়ার আবাদ করেছি।

গত তিন দিন ধরে বন্যার পানির নীচে সব ফসল। এখন পানি নামতে শুরু করেছে। তবে লাভ নেই, ক্ষতি যা হবার হয়ে গেছে। পরিপক্ক হলে অন্তত ৬ লাখের বেশি টাকা বিক্রি করতে পারতাম। এই জমিতে সার- বীজসহ আমার খরচ হয়েছে আড়াই লাখ টাকা।

বালিখাড়া এলাকার কৃষক আবদুল হক বলেন, প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে আগাম জাতের মূলা ও লাউ চাষ করেছি। কিন্তু গোমতীর পানিতে পুরো জমি তলিয়ে গেছে। যার কারণে চারাগুলো সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কুমিল্লার উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, উজানের পাহাড়ি ঢলে গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের অনেক কৃষকের ফসল তলিয়ে গেছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।