দক্ষিণ লেবাননে ‘পাইলট জোন’ চালুর ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

দক্ষিণ লেবাননে ‘পাইলট জোন’ চালুর ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

ছবিঃ সংগৃহীত।

ইরানের সঙ্গে চলা উত্তেজনার মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে ‘পাইলট জোন অপারেশন’ তথা পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সম্মত যুদ্ধবিরতি কাঠামো বাস্তবায়নের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এর আওতায় ইসরায়েলি সেনাদের সরে যাওয়ার পর লেবানিজ সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করার কথা রয়েছে।মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আজ ‘ত্রিপাক্ষিক কাঠামো’ অনুযায়ী এবং ‘লেবানন বিষয়ক সামরিক সমন্বয়কারী গোষ্ঠী’র তত্ত্বাবধানে ফ্রাউন, স্রিফা ও জাওতার আল-গারবিয়া গ্রামে পাইলট জোন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

তবে ​​উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, উল্লিখিত তিনটি গ্রামের মধ্যে দুটিতে বর্তমানে কোনো ইসরায়েলি বাহিনী অবস্থান করছে না। গত মাসে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে স্বাক্ষরিত কাঠামোগত চুক্তির অংশ হিসেবে লেবানিজ সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের জন্য দুটি পাইলট জোন বা পরীক্ষামূলক এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে; ফ্রাউন ও স্রিফা গ্রাম দুটি তার মধ্যে প্রথমটিতে অবস্থিত।

ওই পাইলট জোনটি দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর ছয়-মাইলব্যাপী ‘বাফার জোন’ বা নিরাপত্তা বলয়ের বাইরে অবস্থিত। দ্বিতীয় পাইলট জোনটি আইডিএফ-এর বাফার জোনের উভয় পাশজুড়ে বিস্তৃত।

জাওতার আল-গারবিয়া গ্রামটি ইসরায়েলের বাফার জোনের ভেতরে পড়েছে। সেখানে বর্তমানে অবস্থানরত ইসরায়েলি বাহিনীকে সরে যেতে হবে।

পররাষ্ট্র দপ্তর ‘পাইলট জোন অপারেশন শুরু’ বলতে ঠিক কী বোঝাচ্ছে তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেনি, তবে সম্ভবত তারা ওই তিনটি গ্রামে লেবানিজ সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টিকেই বোঝাচ্ছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই মাইলফলকটি গত সপ্তাহে রোমে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনার প্রত্যক্ষ ফলাফল।

এই কাঠামোগত চুক্তিটি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাবে।

গত মাসে লেবাননের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির অংশ হিসেবে দ্বিতীয় পাইলট জোন থেকে সেনা প্রত্যাহারে ইসরায়েল সম্মত হলেও তারা এখনও তা করেনি। সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই এলাকা থেকে সরে আসার বিষয়ে নির্বাচিত নেতাদের কাছ থেকে তারা কোনো নির্দেশনা পাননি।

সেনা প্রত্যাহারে ইসরায়েলের এই গড়িমসি লেবাননের সঙ্গে আলোচনা প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। লেবানন গত সপ্তাহে রোমে অনুষ্ঠিত আলোচনা বয়কট করার হুমকিও দিয়েছিল; তবে এ বিষয়ে অগ্রগতির আশ্বাসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বৈরুতকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়।

তবে দ্বিতীয় জোন থেকে ইসরায়েলি বাহিনী কখন সরে আসা শুরু করবে তা অস্পষ্টই রয়ে গেছে, কারণ এ বিষয়ে কোনো সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। পরিকল্পিত সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে আইডিএফ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।