রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অগ্নিকাণ্ড: ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
ছবিঃ সংগৃহীত।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবরার ফাহাদ একাডেমি ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ৪ দিন পর সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করা হয়েছে। তবে প্রকৌশল বিভাগের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ক্ষতিগ্রস্ত ওই ভবনে এখনো ৮০টির বেশি এসি (শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র) চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, গত ১৭ জুলাই ওই ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ফলে পুরো ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ৪ দিন অন্ধকারে থাকার পর বুধবার (২২ জুলাই) ‘জোড়াতালি’ দিয়ে বিদ্যুৎ সচল করা হয়। প্রকৌশল বিভাগ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে এসি না চালানোর কড়া নির্দেশ থাকলেও অনেক শিক্ষক ও কর্মকর্তা তা মানছেন না। এতে যেকোনো সময় আবারও বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল ও বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি, ৪টি একাডেমিক ভবনের বৈদ্যুতিক সক্ষমতা সর্বোচ্চ ৮০টি এসির। অথচ নিয়মবহির্ভূতভাবে সেখানে প্রায় ৩ শতাধিক এসি চালানো হচ্ছে। এর মধ্যে অনেক কক্ষেই সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এসি ব্যবহার করা হচ্ছে। ১২-১৪ বছর আগে নির্মিত এই ভবনগুলোর বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন অতিরিক্ত এই লোড নিতে পারছে না।
গত ১৭ জুলাইয়ের অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবনটিতে ওরিয়েন্টেশন ক্লাস ও পরীক্ষা চলছিল। প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী ভবনে অবস্থান করছিলেন। আগুন লাগার পর আতঙ্কিত হয়ে নামতে গিয়ে অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী আহত হন। ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে পুরো ভবনের তার ও সংযোগস্থল ভস্মীভূত হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রকৌশল দপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রতিটি ভবনে সর্বোচ্চ ২০টি এসির সক্ষমতা থাকলেও এখন একেকটি ভবনে শতাধিক এসি লাগানো হয়েছে। প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই অনেক শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিজ কক্ষে এসি ব্যবহার করছেন। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
এ বিষয়ে প্রকৌশল দপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী আলতাফ হোসেন বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটি দ্রুতই প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করবে।
সার্বিক বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ফেরদৌস রহমান এবং উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকত আলীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা রিসিভ করেননি।