গাইবান্ধায় নদ-নদীর পানি বাড়ছে, তীরবর্তী এলাকায় বন্যা ও ভাঙনের শঙ্কা

গাইবান্ধায় নদ-নদীর পানি বাড়ছে, তীরবর্তী এলাকায় বন্যা ও ভাঙনের শঙ্কা

সংগৃহীত ছবি

গাইবান্ধার সব প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও এখনো কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি, তবে পানি বাড়তে থাকায় নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙনও অব্যাহত রয়েছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বুধবার সন্ধ্যা ছয়টার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ৪ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময়ে ঘাঘট নদের পানি ৬ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৮৪ সেন্টিমিটার, করতোয়া নদীর পানি ৪১ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১০৬ সেন্টিমিটার এবং তিস্তা নদীর পানি ৭ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পাউবো জানায়, নদ-নদীর পানির উচ্চতা কখনো কমছে, আবার কখনো বাড়ছে। তবে চলতি বর্ষা মৌসুমে এখন পর্যন্ত জেলার কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।

এদিকে বর্ষা শুরু হওয়ার পর থেকেই ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ঘাঘট, তিস্তা ও করতোয়া নদীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। জেলার অন্তত ৪৫টি পয়েন্টে নদীভাঙনের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি, ফসলি জমি, সড়কসহ বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বর্ষা মৌসুমে সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলায় নদীভাঙনে প্রায় ৭০০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ রসুলপুর, ফজলুপুর ইউনিয়নের চৌমহন চর, খাটিয়ামারি, দক্ষিণ খাটিয়ামারি ও কাউয়াবাদা, উড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কেরানীর চর, কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের কালির খামার, হরিপুর ইউনিয়নের চর চরিতাবাড়ী এবং সদর ও সাঘাটা উপজেলার কয়েকটি এলাকায়।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। নতুন যেসব স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে, সেখানেও প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।