নওগাঁয় গরুসহ আন্তঃজেলা চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার
প্রতিকি ছবি
নওগাঁয় চুরি হওয়া গরুসহ আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার(২১জুলাই) বগুড়া ও নাটোর জেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার কমল দোগাছি গ্রামের মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে ও অস্ত্রসহ ৯ মামলার আসামি গোলাম রাব্বানী(৩৯), নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার তাজপুর এলাকার পতিত চন্দ্র হালদারের ছেলে সুজিত ওরফে অজিত চন্দ্র হালদার(৪০) এবং একই এলাকার সুমেন রাজবংশীর ছেলে সুচন্দন রাজবংশী ওরফে সজল (২৭)। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত কয়েক সপ্তাহে নওগাঁ জেলার রানীনগর, আত্রাই, মহাদেবপুর ও বদলগাছি উপজেলার কয়েকটি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একাধিক চৌকস দল মাঠে নামে।এরপর গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে গত ১৪জুলাই আন্তঃজেলা গরু চোর চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ২১জুলাই রাতে র্যাবের সহায়তায় চক্রের আরেক সদস্য গোলাম রাব্বানীকে বগুড়া থেকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, গোলাম রাব্বানীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নাটোরের সিংড়া উপজেলায় অভিযান চালানো হয়। পরবর্তীতে বগুড়া ও নাটোরের র্যাব সদস্যদের সহায়তায় যৌথ অভিযানে সিংড়া উপজেলার তাজপুর এলাকা থেকে গরু চোর চক্রের সদস্য সুজিত ওরফে অজিত চন্দ্র হালদার ও সুচন্দন রাজবংশী ওরফে সজলকে গ্রেফতার করা হয়। এই দুইজন সম্পর্কে দুলাভাই-শ্যালক। এ সময় তাদের হেফাজত থাকে পাঁচটি চোরাই গরু উদ্ধার করা হয়।
রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) জাকারিয়া মন্ডল বলেন, উপজেলার গোনা এলাকায় দুটি গরু চুরি পর মামলা নেওয়া হয়। এরপর সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে চুরির সময় ওই এলাকায় একটি পিকআপ দেখা যায়। এই পিকআপের সূত্র ধরেই আমরা গত কয়েকদিন থেকে অভিযান পরিচালনা করছি। গত এক সপ্তাহ আগে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও তিন জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, তারা মূলত পেশাদার চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির আন্তঃজেলা চক্রের একটি সিন্ডিকেট দলের সদস্য। তাদের সংখ্যা মোট আট জন। তারা মূলত একটি পিকআপ নিয়ে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন অপরাধে পরিকল্পনা সাজাতো। এরপর সুযোগ বুঝে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি করতো।
জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, নওগাঁ-নাটোর-ময়মনসিংহ এবং বগুড়া কেন্দ্রীক কয়েকজন গরু চোর একত্রিত হয়ে বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরি এবং ডাকাতি করে থাকে। এরা বিভিন্ন স্থান থেকে গরু চুরি ও ডাকাতির পর কিছুদিন পরিচর্যার পর বিক্রি করে দিতো