যশোরে এমপি রসুলের বাড়িতে হামলার ঘটনায় জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল

যশোরে এমপি রসুলের বাড়িতে হামলার ঘটনায় জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল

সংগৃহীত ছবি

যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক গোলাম রসুলের বাড়িতে ভাঙচুর ও হামলার ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াত ইসলামীর নেতাকর্মীরা। এছাড়া পুলিশ সুপারের মধ্যস্থতায় সমঝোতা বৈঠক ডাকা হয়েছে। 

বুধবার (২৯ জুলাই) বিকালে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে দুই পক্ষের উপস্থিতিতে সমঝোতা বৈঠক হবে। 

এর আগে, মঙ্গলবার বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম। একপর্যায়ে তিনি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। দুই পক্ষ সমঝোতা বৈঠকে রাজি হয়েছে।

এদিকে, সংসদ সদস্যের বাড়িতে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াত ইসলামীর নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহরের জজকোর্ট মোড় থেকে নেতাকর্মীরা মিছিলটি বের করেন। পরে মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌরাস্তায় গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে হামলাকারীদের আটকের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন নেতৃবৃন্দ।

মিছিলের পূর্বে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা জামায়াতের আমীর ও সংসদ সদস্যের বাড়িতে হামলা হয়েছে। সকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেও জড়িতদের আটক করেনি প্রশাসন। বাড়ির সামনে হামলাকারীরা দিনভর অবস্থান করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোন পদক্ষেপ নেয়নি। দ্রুত হামলাকারীদের আটকের দাবি জানান বক্তারা। তা না হলে বিভিন্ন কর্মসূচি দেওয়ার হুশিয়ার দেন তারা। 

এসময় জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু জাফর সিদ্দিকী, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক গোলাম কুদ্দুস ও প্রচার সম্পাদক শাহাবুদ্দিন বিশ্বাস বক্তব্য রাখেন।

এর আগে, মঙ্গলবার সকালে যশোর শহরের নীলগঞ্জ সুপারি বাগান এলাকায় আল মাদ্রাসাতুল শারইয়্যাহ'র শিশু ও এক অভিভাবককে মারধর করার অভিযোগ উঠে এমপি গোলাম রসুলের মেয়ের বিরুদ্ধে। পরে ক্ষুদ্ধ অভিভাবক ও জনতা মাদ্রাসার পাশে অবস্থিত এমপির বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে বিক্ষুদ্ধ জনতা এমপির বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। পরে কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে এমপি ও স্বজনদের। এই ঘটনায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

বিকালে যশোর-নড়াইল মহাসড়কে অবস্থান নেন স্থানীয়রা। পরে এই ঘটনায় তদন্ত শেষে জড়িতদের আইননের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিলে সড়ক থেকে সরে যান ক্ষুদ্ধ জনতা। 

এদিন বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম। এ সময় তিনি দুই পক্ষের কথা শুনেন। ঘটনার সু্ষ্ঠু বিচারের আশ্বান দেন পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, এখনো এই ঘটনায় কোন মামলা হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।