দুবাইয়ের আদালতে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেলেন সাবেক আইজিপি বেনজীর

দুবাইয়ের আদালতে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেলেন সাবেক আইজিপি বেনজীর

ছবিঃ সংগৃহীত।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশের সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

গত সোমবার (২৭ জুলাই) দুবাইয়ের একটি আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) তিনি কারাগার থেকে ছাড়া পান। রবিবার (২ আগস্ট) তার ঘনিষ্ঠ সূত্র গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

তবে জামিন পেলেও দুবাই ছাড়ার কোনো সুযোগ নেই সাবেক এই শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার। আদালত থেকে মুক্ত হলেও তার ওপর দুবাই ত্যাগে কঠোর বিধিনিষেধ বজায় রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো প্রত্যর্পণসংক্রান্ত নথিপত্র ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে আদালতে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের দীর্ঘ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে বিচারক শর্তসাপেক্ষে তার জামিন মঞ্জুর করার সিদ্ধান্ত দেন। তবে এই হাইপ্রোফাইল বিষয়টি নিয়ে দুবাই কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখন পর্যন্ত কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

এর আগে গত ১৪ জুন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাই পুলিশের হাতে আটক হওয়ার খবর প্রথম নিশ্চিত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, "১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে পাঠানো এক ই-মেইলে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়, দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে আটক করা হয়েছে।"

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরপরই বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে জোর তৎপরতা শুরু করে। এজন্য দুদকের প্রস্তুত করা প্রায় ১৪৪ পৃষ্ঠার একটি বিশদ নথি আরবি ভাষায় অনুবাদ করে কূটনৈতিক মাধ্যমে দুবাই কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সেই নথিতে তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে থাকা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, দুর্নীতি মামলা ও তাকে প্রত্যার্পণের আইনি যুক্তিগুলো সংযুক্ত করা হয়েছিল। দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি লড়াইয়ের মধ্যেই এবার শর্তসাপেক্ষে কারামুক্ত হলেন সাবেক এই আইজিপি।