জুলাইযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা জানাল শিল্পকলা একাডেমি

জুলাইযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা জানাল শিল্পকলা একাডেমি

সংগৃহীত ছবি

জুলাই কেবল একটি মাসের নাম নয়—এটি আত্মমর্যাদার উচ্চারণ, সাহসের দীপ্ত প্রতীক এবং ন্যায় ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির অগ্নিশিখার প্রজ্বলিত চেতনাও জুলাই। স্বৈরাচারের কবল থেকে জাতিকে মুক্ত করতে চব্বিশের জুলাইয়েই দ্রোহের আগুনে রাজপথে জ্বলে উঠেছিল ছাত্র-জনতা। দেশকে ফ্যাসিবাদের কবল থেকে মুক্ত করতে স্বৈরাচারের রোষানলে পড়ে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে হাজারো ছাত্র-জনতা। আর অধিকার আদায়ের আন্দোলনে স্বৈরাচারের নিপীড়নে আহত হয়েছেন অগণিত মানুষ।

চব্বিশের ঐতিহাসিক সেই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত জুলাইযোদ্ধাদের পরিবারের অংশগ্রহণে স্মরণসভার আয়োজন করেছে শিল্পকলা একাডেমি। এতে জুলাইয়ে শহীদ ও আহতদের পরিবারদেরকে সম্মাননাও প্রদান করা হয়।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় সোমবার শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এই আয়োজন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। স্বাগত বক্তৃতা করেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন।

অনুষ্ঠানে শুরুতে সমবেত যন্ত্রসংগীত ‘মুক্তির মন্দির সোপান তলে’ পরিবেশিত হয়। এরপর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে এক মিনিট নীরবতা পালন করার পাশাপাশি জুলাই আন্দোলন নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে শহীদ ও আহত দশজন জুলাইযোদ্ধাকে সম্মাননা প্রদান করে শিল্পকলা একাডেমি।

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, জুলাই আন্দোলনের মহান শহীদদেরকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি ও তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আর আহতদের সুস্থতা কামনা করছি। ছাত্র-জনতার যে লড়াই আমাদেরকে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ উপহার দিয়েছে তাদের কাছে আমরা ঋণী৷ একটি ভয়ংকর ফ্যাসিবাদী শক্তি যখন জাতির কাঁধে ভর করে বসেছিল তখন ছাত্র-জনতা রাস্তায় নেমে আসে। ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান ও ৭১ এর স্বাধীনতাযুদ্ধের ধারাবাহিকতায় জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জাতি স্বৈরাচারমুক্ত হয়। আমরা চেয়েছিলাম এই দেশ হবে জনগণের। সেই সংগ্রাম ও ভোটের অধিকার নিয়ে আন্দোলন করতে গিয়ে আমাদের শত শত নেতাকর্মীকে মামলা-হামলা, ক্রসফায়ার ও গুম করা হয়। ১৮ বছরের চূড়ান্ত অত্যাচারের পরিণতি জুলাই আন্দোলন। পাহাড়ি ও সমতলসহ সব ধরনের মানুষ রাস্তায় নেমে এসে স্বৈরাচারের পতন ঘটায়। জুলাই আন্দোলনে দুনিয়া কাঁপানো বিশ দিনের আন্দোলনে আমাদের ছাত্র-জনতাসহ সর্বস্তরের মানুষ রাস্তায় নেমে এসে স্বৈরাচারের পতন ঘটায়। জুলাই আন্দোলনের আহত ও নিহত সকলের কাছে গোটা জাতি ঋণী।

আলোচনা-পরবর্তী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করে ইথুন বাবু অ্যান্ড ফ্রেন্ডস। আবৃত্তি করেন এনামুল হক জুয়েল, সীমা ইসলাম ও ইকবাল আহমেদ। একক সংগীত পরিবেশন করেন মনির খান, পিয়াল হাসান ও ইউসুফ আহমেদ খান প্রমুখ। সবশেষে সমবেত সংগীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির কণ্ঠশিল্পীরা।