ইনফান্তিনো সরে না গেলে ‘বিকল্প বিশ্বকাপের’ ভাবনা উয়েফার
ফাইল ছবি
ক্রমে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এক দিক থেকে উয়েফাসহ একাধিক কনফেডারেশন চাপ বাড়াচ্ছে, ওদিকে ঘনিষ্ঠ মিত্রদেরও হারাতে বসেছেন তিনি।
গদি বাঁচাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাহায্যপ্রার্থী হয়েছিলেন। সোমবার সূত্রের বরাত দিয়ে এই খবর দিয়েছে নিউইয়র্ক পোস্ট। খবরে বলা হয়, ইনফান্তিনো ফোনে ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। নিজেকে এখন তিনি ‘বিচ্ছিন্ন’ বোধ করছেন।
ফিফা প্রধান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈশ্বিক জনসম্পর্কবিষয়ক সচিব ডিলান জনসন এক্স-এ এক পোস্টে বলেছেন, ইনফান্তিনোর সঙ্গে রুবিওর কথা বলার কোনো পরিকল্পনা নেই। তাদের মধ্যে কোনো ধরনের ফোনালাপ হয়নি। সবদিক থেকে নিরাশ হয়ে খড়কুটো আঁকড়ে বাঁচার শেষ চেষ্টাও বুঝি বিফল হতে চলেছে ইনফান্তিনোর জন্য।
এদিকে নিজে থেকে ইনফান্তিনো সরে না দাঁড়ালে ফিফাকে অচল করে দিতে উয়েফা গ্লোবাল নেশন্স লিগ নামে একটি বৈশ্বিক আসর আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। যে টুর্নামেন্ট হবে বিশ্বকাপের প্রতিদ্বন্দ্বী। ‘ফুটবলের স্বার্থে ইনফান্তিনোর সরে যাওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই’, কড়া হুঁশিয়ারি উয়েফার।
২০২৬ বিশ্বকাপের সফল আয়োজন শেষে মনে হচ্ছিল, আগামী বছরের মার্চে টানা চতুর্থ মেয়াদে তার ফিফা সভাপতি নির্বাচিত হওয়া সময়ের ব্যাপার। কিন্তু এক ঝড়েই ইনফান্তিনোর সাজানো বাগান লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। বিশ্বকাপসহ বড় সব টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা বাতিল করার পরও আস্থার সংকটে কোণঠাসা ফিফা সভাপতি এখন নিঃসঙ্গ এক নাবিক! মার্কিন প্রভাব কাজে লাগিয়ে কাতার, লেবানন ও মরক্কোর সমর্থনে ফিফার মসনদে টিকে থাকার শেষ চেষ্টা করছেন ৫৬ বছর বয়সি এই সুইস আইনজীবী।
কিন্তু প্রলোভনের টোপ ফেলে দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার ছোট দেশগুলোকে নিজের কব্জায় রাখতে পারলেও ইউরোপ, উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং এশিয়ার অধিকাংশ দেশের সমর্থন হারিয়ে চোখে অন্ধকার দেখছেন ইনফান্তিনো। যদি অনাস্থা প্রস্তাবে তাকে হটানো না যায়, তাহলে আগামী মার্চের নির্বাচনে তাকে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপ। পাশাপাশি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা উয়েফা।
উয়েফা, কনকাকাফ ও এএফসির তীব্র প্রতিবাদ ও বিরোধিতার মুখে বিশ্বকাপের স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা বাতিল করলেও পদত্যাগের দাবিতে সাড়া দেননি ইনফান্তিনো। কাল প্রথম দেশ হিসাবে আগামী মেয়াদে সভাপতি নির্বাচনে তাকে দেওয়া আগের সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছে ওয়েলস। ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও (এফএ) ইনফান্তিনোকে দেওয়া সমর্থনের চিঠি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইউরোপের সব দেশ একই পথে হাঁটবে। ওয়েলস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, বিশ্ব ফুটবলের নেতৃত্বে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন ইনফান্তিনো।