মাদাগাস্কারে জ্যাম কমানোর ক্যাবল কার প্রকল্পই থমকে গেল ‘গ্যাঞ্জামে’
ফাইল ছবি।
মাদাগাস্কারের রাজধানী আন্তানানারিভোতে মারাত্মক ট্রাফিক জ্যাম এড়াতে অত্যন্ত আশা নিয়ে চালু করা ১৭ কোটি ৩০ লাখ ডলারের ক্যাবল কার প্রকল্প শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অকার্যকর হয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সাব-সাহারান আফ্রিকায় এই কার্যক্রম একটি অনন্য উদ্যোগ হিসেবে শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত বিশাল ব্যর্থতায় রূপ নিয়েছে।
দেশটির সাবেক রাষ্ট্রপতি আন্দ্রি রাজোয়েলিনা উপচে পড়া ট্রাফিক জ্যাম সৃষ্টিকারী মিনিবাস ট্যাক্সির ওপর নির্ভরতা কমাতে এই উদ্যোগ নেন। এলাকাটি জলাভূমি হওয়ার কারণে লাইট রেল নির্মাণ অসম্ভব জেনে এই ক্যাবল কার চালুর উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি।
ফ্রান্সে আইফেল টাওয়ার নির্মাণের মতো এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে আখ্যাও দিয়েছিলেন।
তিন লাখ মানুষের জন্য তৈরি আন্তানানারিভোতে বর্তমানে প্রায় ত্রিশ লাখ মানুষ বসবাস করে উল্লেখ করে কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, এই ব্যবস্থা প্রতিদিন ৭৫ হাজার যাত্রী বহন করবে, সড়ক থেকে ২ হাজার যানবাহন কমিয়ে দেবে। তিন ঘণ্টার দীর্ঘ যাত্রা ১০ থেকে ৩০ মিনিটে নামিয়ে আনবে।
কিন্তু ফ্রান্সের ঋণে নির্মিত তিন বছরের এই প্রকল্পটি চালু হতেই মূল বাধা হয়ে দাঁড়ায় টিকিটের অতিরিক্ত মূল্য।প্রতি ট্রিপের জন্য ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭০ থেকে ৯০ ইউএস সেন্ট, যা প্রচলিত মিনিবাসের ভাড়ার চেয়ে ছয় থেকে আট গুণ বেশি।
অথচ বিশ্বব্যাংকের ২০২২ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখানকার একজন কর্মচারীর গড় মাসিক বেতন মাত্র ৭২ ডলার। ৩০ মিলিয়ন জনসংখ্যার দেশটির প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে।
কেপ টাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন বিশেষজ্ঞ পিটার ওন্ডারওয়াটার জানান, দরিদ্র এই মহাদেশের মানুষের কাছে সময় বাঁচানোর চেয়ে অর্থের সাশ্রয় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, ফলে তারা যানজটে আটকে থাকা মেনে নিলেও এত চড়া ভাড়ার ক্যাবল কারে উঠতে রাজি হয়নি।
এছাড়া বছরের পর বছর ধরে বিদ্যুৎ ও পানির চরম সংকটে থাকা স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারের এমন অপ্রয়োজনীয় খরচে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শূন্যে আটকে পড়ার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।
রাজোয়েলিনাকে অপসারণকারী সাম্প্রতিক সামরিক অভ্যুত্থানের সময় ক্ষুব্ধ জনতা কয়েকটি ক্যাবল কার স্টেশনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। তৎকালীন ক্ষমতা নেওয়া সামরিক শাসক কর্নেল মাইকেল রান্ড্রিয়ানিরিনার অন্তর্বর্তী সরকার এই প্রকল্পের বিষয়ে নতুন করে কিছু জানায়নি। ২০৫০ সালের মধ্যে আফ্রিকার প্রায় দ্বিগুণ হতে যাওয়া নগর জনসংখ্যার পরিবহন সংকটের মাঝে মিনিবাসই যেখানে প্রধান ভরসা।
ফলে এই উচ্চাভিলাষী ক্যাবল কার শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের কোনো কাজেই আসেনি।