ফের উত্তেজনা উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ঘিরে

ফের উত্তেজনা উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ঘিরে

ফাইল ছবি।

জাপান সাগরের দিকে অন্তত একটি অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে উত্তর কোরিয়া। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ধারণা, এটি সম্ভবত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।

দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানায়, উত্তর কোরিয়া পূর্ব সাগরের দিকে একটি অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। একই সময়ে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, উত্তর কোরিয়া থেকে সম্ভবত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। তবে কিছুক্ষণ পর তারা জানায়, জাপানের আশপাশের এলাকায় এ উৎক্ষেপণের কোনো প্রভাব পড়েনি।

সাম্প্রতিক এ উৎক্ষেপণের একদিন আগেই উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং জাপানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা করেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, জাপান ‘যুদ্ধরাষ্ট্রে’ পরিণত হওয়ার পথে এগোচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, জাপানের এই অবস্থানের কারণে পিয়ংইয়ং অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।

অন্যদিকে, জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি চলতি সপ্তাহে বলেন, চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা হুমকির মুখে দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দ্রুত জোরদার করা জরুরি। তবে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, তাদের সামরিক সক্ষমতা কেবল আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে এবং তা দেশটির শান্তিবাদী সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় পরিচালিত হয়।

২০২৫ সালে জাপান তার প্রতিরক্ষা বাজেট ৯ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়িয়ে ৬২ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করেছে, যা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ১৯৫৮ সালের পর সর্বোচ্চ।

এদিকে, ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কিম জং উনের শীর্ষ বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে উত্তর কোরিয়া নিজেকে ‘অপরিবর্তনীয়’ পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে দাবি করে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সেনা ও অস্ত্র সরবরাহের বিনিময়ে মস্কোর কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা, খাদ্য, জ্বালানি ও সামরিক প্রযুক্তি পাচ্ছে পিয়ংইয়ং।

দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং ক্ষমতায় আসার পর উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পূর্বশর্ত ছাড়া সংলাপের প্রস্তাব দিলেও এখন পর্যন্ত পিয়ংইয়ং তাতে সাড়া দেয়নি।

১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধ যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে শেষ হলেও এখনো কোনো শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। ফলে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে।