অ্যান্টার্কটিকায় অস্ট্রেলীয় বিমানকর্মীদের দুঃসাহসিক উদ্ধার অভিযান

অ্যান্টার্কটিকায় অস্ট্রেলীয় বিমানকর্মীদের দুঃসাহসিক উদ্ধার অভিযান

সংগৃহীত ছবি

ঘুটঘুটে অন্ধকার আর মাইনাস ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তীব্র শীতের মধ্যে অ্যান্টার্কটিকায় অভাবনীয় দুঃসাহসিক উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে একটি অস্ট্রেলীয় বিমানকর্মী দল। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যান্টার্কটিক অভিযানের অসুস্থ এক সদস্যকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দিতে এই জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ বিমান মিশন পরিচালনা করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ার বিমান পরিবহন সংস্থা স্কাইট্রেডার্স জানায়, ম্যাকমুর্ডো স্টেশন থেকে জরুরি ভিত্তিতে এক রোগীকে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ পাওয়ার পর এয়ারবাস এ৩১৯ মডেলের বিশেষ বিমানটি রওনা হয়। তবে তীব্র বাজে আবহাওয়ার কারণে মিশনটির শুরুতেই প্রায় ১২ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। অবশেষে তাসমানিয়ার হোবার্ট শহর থেকে স্নোবার্ড-১ নামের বিমানটি উড্ডয়ন করে এবং কোনো রকমে বরফের রানওয়েতে অবতরণ করতে সক্ষম হয়।

স্কাইট্রেডার্সের উপ-প্রধান নির্বাহী ডানকান ম্যাকে জানান, খবর পাওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিমানটিকে পূর্ণাঙ্গ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে রূপান্তর করা হয়। চরম প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করলেও পুরো দলটির দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণেই এই কঠিন ল্যান্ডিং সম্ভব হয়েছে। ২১ জুনের শীতকালীন সংক্রান্তির (উইন্টার সোলস্টিস) এত কাছাকাছি সময়ে আগে কখনো কোনো বেসামরিক বিমান সেখানে অবতরণ করেনি।

উদ্ধার অভিযানের ক্যাপ্টেন আল ওয়ালাক জানান, শূন্যের নিচে ৪৩ ডিগ্রি তাপমাত্রা ও সম্পূর্ণ অন্ধকারের কারণে পরিস্থিতি বিমানের সর্বোচ্চ ক্ষমতার শেষ সীমায় পৌঁছে গিয়েছিল। নির্ভুল পরিকল্পনা, আবহাওয়াবিদ ও সঠিক মেডিক্যাল টিমের সমন্বিত প্রচেষ্টাতেই এই মিশন সফল হয়েছে। পরবর্তীতে অসুস্থ মার্কিন সদস্যকে নিরাপদে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং বর্তমানে ভালো আছেন। 

সূত্র: বিবিসি