টিকটিকি দেখলেই ভয় পান? এর পেছনে থাকতে পারে মানসিক কারণ
ফাইল ছবি
ঘরের দেয়ালে হঠাৎ একটি টিকটিকি দেখা মাত্রই অনেকের বুক ধড়ফড় শুরু হয়। কেউ চিৎকার করে ঘর থেকে বেরিয়ে যান, কেউ আবার টিকটিকি না সরানো পর্যন্ত সেই ঘরে ঢুকতেই চান না।
বিষয়টি নিয়ে অনেকেই হাসাহাসি করলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি সব সময় সাধারণ ভয় নয়; অনেক ক্ষেত্রে এর পেছনে থাকতে পারে মানসিক কারণ।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকটিকি দেখলে কিছু মানুষের শরীরে তীব্র উদ্বেগের প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এ সময় বুক ধড়ফড় করা, ঘাম হওয়া, হাত-পা কাঁপা, শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হয়ে যাওয়া বা হঠাৎ সেখান থেকে সরে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা তৈরি হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটি নির্দিষ্ট ধরনের ফোবিয়া–এর লক্ষণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভয় তৈরির পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। শৈশবে টিকটিকি নিয়ে কোনো ভয়ংকর অভিজ্ঞতা, পরিবারের অন্য সদস্যদের টিকটিকিকে ভয় পেতে দেখা কিংবা টিকটিকির হঠাৎ দ্রুত নড়াচড়া—এসব বিষয় মানুষের মনে দীর্ঘস্থায়ী ভয় তৈরি করতে পারে। ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদন এ তথ্য জানায়।
অনেকের ক্ষেত্রে টিকটিকির চেহারা, চলাফেরার ধরন বা আচরণও অস্বস্তি সৃষ্টি করে।
ফলে টিকটিকি দেখামাত্র মস্তিষ্ক সেটিকে সম্ভাব্য বিপদ হিসেবে ধরে নেয় এবং শরীর স্বাভাবিকভাবেই আত্মরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া দেখায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ ভয় আর ফোবিয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। টিকটিকি অপছন্দ করা স্বাভাবিক। কিন্তু যদি এই ভয়ের কারণে কেউ ঘরে ঢুকতে না চান, একা থাকতে ভয় পান, বারবার দেয়াল বা ছাদ পরীক্ষা করেন কিংবা দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।
মনোবিজ্ঞানীরা জানান, এ ধরনের ভয় থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (সিবিটি) এবং এক্সপোজার থেরাপির মাধ্যমে ধীরে ধীরে এই ভয় কমানো যায়। এসব চিকিৎসায় রোগীকে নিরাপদ পরিবেশে ধাপে ধাপে নিজের ভয় মোকাবেলা করতে সহায়তা করা হয়।
বাংলাদেশেও অনেক মানুষের মধ্যে টিকটিকি-ভীতি দেখা যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ভয়কে নিয়ে হাসাহাসি বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য না করে বিষয়টি বুঝতে চেষ্টা করা উচিত। কারণ একজনের কাছে এটি সামান্য বিষয় হলেও, অন্য কারো জন্য এটি তীব্র মানসিক চাপ ও উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
তাই টিকটিকি দেখলেই যদি অস্বাভাবিক আতঙ্ক, শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড় বা দৈনন্দিন জীবনে সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে দেরি না করে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।