মাদারীপুরে ডায়রিয়া রোগীর চাপ, ভর্তি প্রায় দ্বিগুণ

মাদারীপুরে ডায়রিয়া রোগীর চাপ, ভর্তি প্রায় দ্বিগুণ

সংগৃহীত ছবি

মৌসুমি রোগীর পাশাপাশি মাদারীপুরে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের ২৫ শয্যার ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। শয্যা সংকটের কারণে অনেকেই ওয়ার্ডের মেঝে ও বারান্দায় অবস্থান করে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

শুক্রবার সকালে হাসপাতালে দেখা যায়, ডায়রিয়া ছাড়াও জ্বর, সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন মৌসুমি রোগে আক্রান্ত রোগীদের ভিড় বেড়েছে। ভর্তি রোগীদের মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাই বেশি। ডায়রিয়া ওয়ার্ডের পাশাপাশি শিশু ওয়ার্ড এবং বহির্বিভাগেও রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে আন্তঃবিভাগ ও বহির্বিভাগ মিলিয়ে দেড় থেকে দুই হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন। কিন্তু রোগীর তুলনায় জনবল সংকট দীর্ঘদিনের। হাসপাতালের অনুমোদিত ১৬৪টি পদের বিপরীতে বর্তমানে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে কর্মরত আছেন মাত্র ১৩৫ জন। দীর্ঘদিন ধরে ২৯টি পদ শূন্য থাকায় সীমিত জনবল নিয়েই বাড়তি রোগীর সেবা দিতে হচ্ছে। এতে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী ও স্বজনেরা জানান, অতিরিক্ত রোগীর কারণে ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকেই মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিক্ষার্থী লামিয়া আক্তারের বলেন, ‘সকালে ভাত খাওয়ার পর বমি শুরু হয়। এরপর বারবার পাতলা পায়খানা হতে থাকে। পরে হাসপাতালে ভর্তি হই।’

একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে আরও অনেক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে জানান স্বজনেরা। তবে সীমিত জনবল নিয়েও চিকিৎসক ও নার্সরা আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে মন্তব্য করেন তারা।

মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. অখিল সরকার বলেন, আবহাওয়ার পরিবর্তন, টানা বৃষ্টি এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার ও দূষিত পানি গ্রহণের কারণে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন মৌসুমি রোগের প্রকোপ বেড়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। বর্তমানে ৪৭ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ডায়রিয়া প্রতিরোধে বিশুদ্ধ পানি পান, খাবার ভালোভাবে রান্না করে খাওয়া, বাসি ও খোলা খাবার এড়িয়ে চলা এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। কারও পাতলা পায়খানা, বমি বা পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

এদিকে মৌসুমি রোগের প্রকোপ অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই দ্রুত হাসপাতালের শয্যা ও জনবল বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনেরা।