তিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন স্থগিত

তিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন স্থগিত

ফাইল ছবি

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নন ব্যাংকিং তিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। 

প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড।

সোমবার (১০ আগস্ট) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান তিনটি ‘অকার্যকর’ ঘোষণা করেছে। এ কারণে আজ ১০ আগস্ট থেকে কোম্পানিগুলোর শেয়ার লেনদেন স্থগিত রাখা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এ স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে কোম্পানি তিনটির শেয়ার লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে বলে জানায় ডিএসই।

এর আগে, বাংলাদেশ ব্যাংক রবিবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর ঘোষণা ও রেজল্যুশন কার্যক্রম শুরু করেছে। আর্থিক খাতে সুশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, আমানতকারী ও অন্যান্য পাওনাদারের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং আর্থিক খাতের প্রতি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এর আওতায় চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর ঘোষণা করেছে। 

রেজল্যুশনের আওতায় এনে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে রেজল্যুশন কার্যক্রম শুরু করেছে। ফলে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর ঘোষণা করে ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এর আওতায় আনার পর উক্ত আইনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগ করে প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। রেজল্যুশন কার্যক্রমের সুষ্ঠু, কার্যকর ও নির্বিঘ্ন বাস্তবায়ন এবং আমানতকারীসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের স্বার্থ সংরক্ষণের লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- আভিভা ফাইন্যান্স লিমিটেড, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা ও পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বড় অঙ্কের মূলধন ঘাটতি, উচ্চমাত্রার শ্রেণিকৃত ঋণ ও বিনিয়োগ, তারল্য সংরক্ষণে ব্যর্থতা, আয় ক্ষমতার অবনতি এবং আমানতকারী ও পাওনাদারদের দায় পরিশোধে অক্ষমতা এ সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ।

একইসঙ্গে, রেজল্যুশন কার্যক্রম সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এডমিনিস্টেটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা ও রেজল্যুশন কার্যক্রম পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করবেন।