লোডশেডিংয়ে ক্ষুব্ধ গ্রাহকের হামলার শঙ্কা, নিরাপত্তা চেয়ে ওজোপাডিকোর চিঠি
সংগৃহীত ছবি
গোপালগঞ্জে তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে জনদুর্ভোগ চরমে। তাই ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা বিদ্যুৎ অফিস ও উপকেন্দ্রে হামলা চালাতে পারেন এমন আশঙ্কায় নিজেদের স্থাপনা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা চেয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি দিয়েছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি (ওজোপাডিকো)।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ওজোপাডিকোর গোপালগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মাঈন উদ্দিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে দপ্তর ও বিদ্যুৎ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি নিয়মিত পুলিশি টহলের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, গোপালগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় ওজোপাডিকোর পাওয়ার হাউস, গোপালগঞ্জ দপ্তর ক্যাম্পাস এবং চরপাথালিয়ায় অবস্থিত দুটি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে গোপালগঞ্জে ঘন ঘন লোডশেডিং করতে হচ্ছে এবং স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ তৈরি হতে পারে। এ অবস্থায় অসন্তুষ্ট ব্যক্তি বা জনসাধারণ ওজোপাডিকোর দপ্তর, বৈদ্যুতিক স্থাপনা কিংবা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করতে পারেন। এমনকি কোনো অনভিপ্রেত ঘটনা বা নাশকতার আশঙ্কাও রয়েছে।
এ কারণে ওজোপাডিকোর সব স্থাপনা ও ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা জোরদার, নিয়মিত পুলিশি টহলের আওতায় আনা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজরদারির অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার রাতে নির্বাহী প্রকৌশলী মাঈন উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, দিনে বিদ্যুতের চাহিদা ১২ থেকে ১৪ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে আমরা প্রায় ৯ মেগাওয়াট বরাদ্দ পাচ্ছি। রাতে চাহিদা বেড়ে প্রায় ১৮ মেগাওয়াট হয়। তখন সরবরাহ পাওয়া যায় ১২ থেকে ১৪ মেগাওয়াট। এই কারণে লোডশেডিং দিতে হয়।
তিনি আরো বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা চলায় এবং হাসপাতালের রোগীদের কথা বিবেচনা করে সেখানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা করা হচ্ছে। ফলে ঘাটতি সামাল দিতে কোনো কোনো এলাকায় এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
ওজোপাডিকোর এ কর্মকর্তা বলেন, আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করি না। জাতীয় গ্রিড থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, সেটিই বিতরণ করা হয়। গ্রাহকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে আমাদের অফিস ও উপকেন্দ্রে হামলা করতে পারেন বলে আশঙ্কা করছি। তাই দপ্তর, উপকেন্দ্রসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।