কাউকে বাদ দিয়ে কানাকানি কথা বলা নিষেধ

কাউকে বাদ দিয়ে কানাকানি কথা বলা নিষেধ

ফাইল ছবি

বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখন কোথাও তিনজন একত্রে থাকে, তখন একজনকে রেখে বাকি দুজন কানাকানি করে কথা বলবে না। 

অন্য বর্ণনায় আছে, আবদুল্লাহ ইবনে দিনার (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ও আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বাজারের সন্নিকটে অবস্থিত খালেদ ইবনে ওকবা (রা.)-এর বাড়িতে ছিলাম।

তখন এক ব্যক্তি তার সঙ্গে কানাকানি করে কথা বলতে চাইল। তখন ইবনে ওমরের সঙ্গে আমি ও আগত ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ ছিল না। তখন ইবনে ওমর (রা.) আরেকজনকে ডেকে আনলেন। তখন আমরা চারজন হলাম।

তারপর যাকে ডাকা হলো তাকে একটু সরে যাওয়ার আদেশ দিয়ে তিনি বললেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, একজনকে রেখে দুজন কানাকানি করে কথা বলবে না।(সহিহ  বুখারি, হাদিস : ৬২৮৮, সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৫৬৯৪)
এই হাদিসে ইসলামের সামাজিক শিষ্টাচার, মানুষের মর্যাদা এবং পারস্পরিক হৃদ্যতা রক্ষার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। বিশেষ করে তিনজন একসঙ্গে থাকলে দুজনের গোপনে কানাকানি করা তৃতীয় ব্যক্তির মনে কষ্ট, সন্দেহ ও একাকিত্ব বোধ সৃষ্টি করতে পারে। হাদিসটির উল্লেখযোগ্য শিক্ষাগুলো হলো—

১. কাউকে বাদ দিয়ে গোপনে কথা বলা নিষেধ।

তিনজন একসঙ্গে থাকলে দুজন এমনভাবে গোপনে কথা বলবে না, যাতে তৃতীয় ব্যক্তি নিজেকে আলোচনার বাইরে মনে করে। এটি ইসলামের সুন্দর সামাজিক আচরণের অংশ।

২. মানুষের মনে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা। দুজনের কানাকানি দেখে তৃতীয় ব্যক্তি মনে করতে পারেন, তাকে নিয়েই আলোচনা হচ্ছে অথবা তাকে নিয়ে কোনো নেতিবাচক কথা বলা হচ্ছে। এতে তার মনে কষ্ট ও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।

ইসলাম মানুষের অন্তরে কষ্ট সৃষ্টি করাকে অপছন্দ করে।

৩. সন্দেহের পথ বন্ধ করা। কানাকানি অনেক সময় অমূলক সন্দেহের জন্ম দেয়। তৃতীয় ব্যক্তি ভাবতে পারেন—‘আমাকে নিয়েই কি তারা কথা বলছে?’ ইসলাম এমন আচরণ থেকে দূরে থাকতে বলে, যা মানুষের মনে অযথা সন্দেহ সৃষ্টি করে।

৪. সামাজিক সম্পর্ক সুন্দর রাখা : ইসলাম শুধু ইবাদতের শিক্ষা দেয় না; মানুষের সঙ্গে কিভাবে সুন্দর আচরণ করতে হবে, তা-ও শেখায়। এই হাদিস পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্মান ও ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার গুরুত্বপূর্ণ নীতি শিক্ষা দেয়।

৫. সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে কাউকে একঘরে করা যাবে না। কোনো বৈঠক বা আড্ডায় কয়েকজন মিলে একজনকে ইচ্ছাকৃতভাবে আলোচনার বাইরে রাখা ইসলামী ভদ্রতার পরিপন্থী। প্রত্যেকের সম্মান ও মানসিক অবস্থার প্রতি খেয়াল রাখা উচিত।

৬. প্রয়োজন হলে গোপন কথা বলার বৈধ পদ্ধতি অবলম্বন করা। যদি কোনো বিশেষ কারণে দুজনের মধ্যে গোপন কথা বলা জরুরি হয়, তাহলে তৃতীয় ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে নয়; বরং তার উপস্থিতি যাতে তাকে কষ্ট না দেয়, সে ব্যবস্থা করা উচিত। ইবনে ওমর (রা.)-এর আমল থেকেই বিষয়টি স্পষ্ট—তিনি আরেকজনকে ডেকে এনে সংখ্যা চারজন করেছিলেন।

সারকথা : এই হাদিস আমাদের শেখায়—কথা বলার অধিকার যেমন আছে, তেমনি অন্যের অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানোর দায়িত্বও আছে। এমন কোনো আচরণ করা উচিত নয়, যাতে পাশে থাকা মানুষটি নিজেকে অবহেলিত, অপমানিত বা সন্দেহের মধ্যে মনে করেন। ইসলামের সৌন্দর্য হলো—এটি মানুষের শুধু বাহ্যিক আচরণ নয়, বরং অন্যের হৃদয়ের অনুভূতিকেও গুরুত্ব দেয়।