আফগানিস্তানে বিস্ফোরণে ৪২ শিশু আহত, তদন্তের দাবি জাতিসংঘের
ছবি : রয়টার্স
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি স্কুলের কাছে ভয়াবহ হ্যান্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণে ৪২ জন শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) জাতিসংঘের রাজনৈতিক মিশন (ইউএনএএমএ) জানিয়েছে, আহত শিশুদের বয়স ৯ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে।
স্থানীয় সূত্র ও আফগান গণমাধ্যমের তথ্যমতে, সোমবার (১৭ আগস্ট) ঘটে যাওয়া এই বিস্ফোরণে আহত শিশুর সংখ্যা ৫০ স্পর্শ করতে পারে। নৃশংস এই হামলার পর পরই ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে জাতিসংঘ।
ঘটনাটি ঘটেছে কাবুলের দশত-ই-বার্চি নামক মহল্লায়, যা প্রধানত হাজারা শিয়া মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা। আফগানিস্তানের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯ শতাংশ হাজারা সম্প্রদায়, যারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্নি উগ্রপন্থী গোষ্ঠী (যেমন—আইএস) এবং বিভিন্ন চরমপন্থীদের বৈষম্য ও ধারাবাহিক হামলার শিকার হয়ে আসছে।
এর আগেও ২০২১ সালে একই এলাকার একটি স্কুলে ভয়াবহ তিনটি বোমা হামলায় বহুসংখ্যক শিক্ষার্থী নিহত হয়, যাদের অধিকাংশই ছিল কিশোরী।
আফগানিস্তানের জন্য জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্তকারী রিচার্ড বেনেট এই ঘটনাকে একটি জঘন্য হামলা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আরো একবার কাবুলের হাজারা এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হলো। অপরাধীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।
একইসাথে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক নিশ্চিত করেছেন যে, সংস্থাটি বিস্ফোরণের আসল কারণ ও পরিস্থিতি উদঘাটনে কাজ শুরু করেছে।
এ হামলার পাশাপাশি আফগানিস্তানের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশাও তুলে ধরেছে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা দপ্তর। তালেবান সরকারের অধীনে ষষ্ঠ শ্রেণির পর মেয়েদের শিক্ষা বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া, সম্প্রতি দেশে ফিরে আসা ৯ লাখ শিশুর মধ্যে প্রায় ৬ লাখ শিশুই স্কুলের বাইরে রয়ে গেছে। চরম অর্থসংকটের কারণে জাতিসংঘ সহায়তার হাত বাড়ালেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ছে।