কলকাতায় আগুনে নিহত বাংলাদেশিদের তালিকায় সাতক্ষীরার সাজু
সংগৃহীত ছবি
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার নিউ মার্কেট সংলগ্ন মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশির মধ্যে সাতক্ষীরার মো. আলিমুজ্জামান সাজুর পরিচয় পাওয়া গেছে। চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে হোটেলে অবস্থান করছিলেন তিনি।
আলিমুজ্জামান সাজু সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল এলাকায় সেটেলমেন্ট অফিসের পাশের বাসিন্দা। তাঁর পৈতৃক বাড়ি কালীগঞ্জ উপজেলার তারালি ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মো. ইউনুস আলী সরদারের ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহত সাজুর খালাতো ভাই তাহমিদ শাহেদ চয়ন।
তিনি জানান, কলকাতার ওই হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের তালিকায় তাঁর খালাতো ভাই মো. আলিমুজ্জামান সাজুর নাম রয়েছে।
নিহতের নিকটাত্মীয় মোখলেছুর রহমান পল্টু জানান, কোমরের ব্যথার চিকিৎসা করাতে পাঁচ থেকে ছয় দিন আগে সাজু ভারতে যান। বুধবার তাঁর বাড়িতে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে স্বজনরা খবর পান, কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে সাজু মারা গেছেন।
প্রতিবেশী হাফিজুর রহমান হাফিজ জানান, সাত থেকে আট বছর আগে হজ পালন করে দেশে ফেরার পর সাজু জানিয়েছিলেন, তিনি বিয়ে করবেন না। এরপর তিনি অবিবাহিতই ছিলেন। এলাকায় সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে তাঁর পরিচিতি ছিল।
এক বছর আগে সাজুর মা মারা যান। তাঁর বাবাও আর বেঁচে নেই।
চার ভাইয়ের মধ্যে সাজু ছিলেন সবার ছোট। তাঁর মেজো ভাই রাজু সরদারও মারা গেছেন। বর্তমানে বড় ভাই সাহেব সরদার ও সেজো ভাই উজ্জ্বল সরদার জীবিত আছেন। সাজুর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি জানার পর নিহতের পরিচয় ও অন্যান্য বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, বুধবার ভোর আনুমানিক ৩টার দিকে কলকাতার নিউ মার্কেট সংলগ্ন মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই হোটেলের চারতলায় আগুন লাগে। খবর পেয়ে পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ঘটনার সময় হোটেলের অধিকাংশ অতিথি নিজ নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, বাইরে থেকে আগুনের শিখা তেমন দেখা না গেলেও হোটেলটির ভেতর দ্রুত ঘন কালো ধোঁয়ায় ভরে যায়। প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সংকীর্ণ হওয়ায় আতঙ্কিত অতিথিদের মধ্যে হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হয়।
পরে উদ্ধারকারীরা হোটেল থেকে অন্তত ৬০ জনকে আশঙ্কাজনক ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক ৯ জনকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে সাজুর মৃত্যুর খবর সাতক্ষীরায় পৌঁছানোর পর পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর গ্রামের বাড়ি বরেয়া ও শহরের পলাশপোল এলাকায় চলছে শোকের মাতম।