ইরানের হুঁশিয়ারিতে তোরজোড় ন্যাটোর
ফাইল ছবি
ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্যবস্তুর ওপর ইরানের সম্ভাব্য হামলার হুমকির পর নড়চড়ে বসেছে ন্যাটো। এরই মধ্যে সামরিক এই জোটটি বুলগেরিয়ায় তাদের বেজমার বিমান ঘাঁটিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) এক বিবৃতিতে ন্যাটোর এক কর্মকর্তা বলেন, যেকোনো হুমকির মোকাবিলায় ন্যাটো প্রস্তুত এবং মিত্র দেশগুলোর সুরক্ষায় যা কিছু করা প্রয়োজন, তা তারা সর্বদা করবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা আরও জানান, চলতি বছর তুরস্কের দিকে ইরানের ছোড়া চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ন্যাটো প্রতিহত করেছিল। বাইরের হুমকির বিরুদ্ধে এই সামরিক জোটের প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান শক্তিশালী ও কার্যকর, তার প্রমাণ হিসেবে তিনি এই ঘটনাটি উল্লেখ করেন।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর একটি প্রতিবেদনের পর ন্যাটোর এই মন্তব্য করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইউরোপজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলার বিষয়টি বিবেচনা করেছে ইরান। তেহরানের পরিকল্পনার বিষয়টি দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপে উদ্বেগের সৃষ্টি করবে, কারণ এই অঞ্চলের কয়েকটি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তাকারী সামরিক স্থাপনা রয়েছে।
গত জুলাই মাসে বুলগেরিয়ার পার্লামেন্ট মার্কিন সামরিক বিমানের জ্বালানি সংগ্রহের কেন্দ্র হিসেবে বেজমার বিমান ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমোদন দেয় এবং অক্টোবর পর্যন্ত সেখানে প্রায় ২৫০ জন মার্কিন সেনাসদস্যকে মোতায়েন রাখার অনুমতি দেয়।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান ডেমারদঝিয়েভ বার্তা সংস্থা বিটিএ-কে জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে বুলগেরিয়া ওই ঘাঁটিতে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর বর্তমান মূল্যায়নে হুমকি বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে উচ্চতর মাত্রার হুমকির মোকাবিলা করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা পরিস্থিতি ও ঘটনাবলি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি এবং সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া অব্যাহত রাখব। বর্তমানে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে যে মাত্রার হুমকির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তার তুলনায় আমাদের গৃহীত পদক্ষেপগুলো অনেক বেশি ব্যাপক ও নিবিড়।
ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পরপরই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বুলগেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক হামলার পক্ষ নিলে তাদের অবশ্যই এর পরিণতির দায়ভার গ্রহণ করতে হবে।
ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউরোপের সাইপ্রাসে অবস্থিত একটি ব্রিটিশ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান। এরপর থেকে ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটি ও লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে এবং বারবার সতর্ক করেছে, তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক কার্যক্রমে সহায়তা প্রদানকারী যেকোনো দেশও হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।
পারস্পরিক বৈরিতা অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান গত জুন মাসে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছিল। এতে যুদ্ধ অবসানের জন্য একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল, কিন্তু সোমবার সেই সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে কোনো আলোচনা চলছে না।
সূত্র: আলজাজিরা।