কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩১৪

কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩১৪

ফাইল ছবি

কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। ভূমিকম্পে এখনো ২৬২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের সন্ধানে উদ্ধারকারী দলগুলো অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। 

বুধবার (১৯ আগস্ট) দেশটির ন্যাশনাল ইউনিট ফর ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট (ইউএনজিআরডি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইউএনজিআরডি জানিয়েছে, ভূমিকম্পে আহতের সংখ্যা বেড়ে চার হাজার ৪৩৭ জনে দাঁড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত অবস্থায় ৩৬৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। সরকারি হিসাবে, দেশটিতে মোট দুই লাখ ৬২ হাজার ১৫৪ জন ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

গত ১০ আগস্ট স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে (জিএমটি দুপুর ১২টা ৩৪ মিনিট) ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। চলতি শতাব্দীতে কলম্বিয়ায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প ছিল এটি। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল প্রশান্ত মহাসাগরীয় চোকো বিভাগের সান হোসে দেল পালমারের কাছে। ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১১০ কিলোমিটার গভীরে এর উৎপত্তি হওয়ায় এটি ছিল মাঝারি গভীরতার ভূমিকম্প।

তবে গভীরে উৎপত্তি হলেও এর প্রভাবে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের ‘কফি অ্যাক্সিস’ নামে পরিচিত এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে।

ইউএনজিআরডির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে আঞ্চলিক স্বাস্থ্য ও পরিবহনব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। অন্তত ৩০ হাজার ৬৬৪টি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। আরও ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯৪৬টি বাড়ি কাঠামোগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ৩০২টি ভবন ধসে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কালি ও পেরেইরা শহর।

ভূমিকম্পে তিন হাজার ৪৭০টি স্কুল, চার হাজার ৯৭১টি কমিউনিটি সেন্টার এবং ৩৫২টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কয়েকটিতে রোগীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর মধ্যে রয়েছে ৪৪৯টি সড়ক, ৫৮টি যানবাহন চলাচলের সেতু, ১৩টি পদচারী সেতু, ১০৫টি পৌর পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং পাঁচটি আঞ্চলিক বিমানবন্দর।

কালি ও পেরেইরার মতো শহরগুলোতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করতে নগর মূল্যায়ন দল কাজ করছে। ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে এমন শত শত ভবনে লাল রঙ দিয়ে ‘বসবাস করা নিষেধ’ লিখে দেওয়া হয়েছে। ফলে হাজারো বাস্তুচ্যুত মানুষ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা খোলা আকাশের নিচে তৈরি করা তাঁবুতে রাত কাটাচ্ছেন।

শহরাঞ্চলের বাইরে চোকো, কালদাস ও কুইন্দিও বিভাগের প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকাগুলোও ব্যাপকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভূমিধসের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বন্ধ থাকায় এসব এলাকায় ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। মৌসুমি ভারী বৃষ্টি, দূষিত পানির সরবরাহ এবং নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কায় স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়ছে।

অর্থনীতিবিদ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভবন ও পরিবহণ অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির কারণে প্রাথমিক অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ফলে আধুনিক কলম্বিয়ার ইতিহাসে এটি অন্যতম ব্যয়বহুল পুনর্গঠন ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে পরিণত হতে পারে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি