উত্তরা ফাইন্যান্সে প্রশাসক, পর্ষদে কোরাম সংকট
ফাইল ছবি
চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) চার পরিচালকের একযোগে পদত্যাগের পর আর্থিক প্রতিষ্ঠান উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টসে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চার কর্মকর্তাকে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসক ও সহকারী প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নবনিযুক্ত কর্মকর্তারা বুধবার (১৯ আগস্ট) দায়িত্ব নিয়েছেন। মঙ্গলবার তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক মোস্তাকুর রহমানকে প্রশাসক এবং অতিরিক্ত পরিচালক মোকাদ্দেসুল আলম, মোশাররফ হোসেন ও যুগ্ম পরিচালক বিমল কুমার গায়েনকে সহকারী প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
উত্তরা ফাইন্যান্স শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ায় পর্ষদ পুনর্গঠন ও প্রশাসক নিয়োগের তথ্য বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুই স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
এর আগে, গত রবিবার উত্তরা ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান ও এনআরবিসি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মুখতার হোসেন, স্বতন্ত্র পরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মো. নিয়ামুল কবির, স্বতন্ত্র পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওয়ালি উল্লাহ একযোগে পদত্যাগ করেন।
চার পরিচালকের পদত্যাগের পর প্রতিষ্ঠানটির পর্ষদে পরিচালক হিসেবে ছিলেন মাত্র দুজন। তারা হলেন- স্বতন্ত্র পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল আজম এবং উত্তরা গ্রুপের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) ও পরিচালক মাহবুব আলম। ফলে পর্ষদে কোরাম সংকট দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কাঠামো পুনর্গঠন করেছে।
এর আগে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে উত্তরা ফাইন্যান্সের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তখন চারজন স্বতন্ত্র পরিচালক এবং উত্তরা গ্রুপের সিএফও মাহবুব আলমকে নিয়ে পাঁচ সদস্যের পর্ষদ গঠন করা হয়। ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে মো. ওয়ালি উল্লাহ তখন দায়িত্বে ছিলেন। তিনি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে উত্তরা ফাইন্যান্সের এমডি হিসেবে যোগ দেন।
অনিয়মে দুর্বল হয়ে পড়ে প্রতিষ্ঠান
একসময় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ভালো প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি ছিল উত্তরা ফাইন্যান্সের। প্রতিষ্ঠানটির মালিকানায় উত্তরা গ্রুপের বড় অংশীদারত্ব ছিল এবং পর্ষদেও গ্রুপটির সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। তবে, পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটিতে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে এসব অনিয়মের তথ্যও উঠে আসে। ২০১৯ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণের ভিত্তিতে পরিচালিত পরিদর্শনে আমানতের অর্থ প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা না দিয়ে উদ্যোক্তাদের স্বার্থে ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যায়।
এ ছাড়া, কলমানির অর্থ নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, অগ্রিম ও প্রিপেমেন্টের নামে নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ বের করে নেওয়া এবং ভুয়া এফডিআরের বিপরীতে ঋণ দেওয়ার মতো অনিয়মও শনাক্ত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, এসব অনিয়মে অন্তত ৩ হাজার ৪৪০ কোটি টাকার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গিয়েছিল।
এসব অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালে উত্তরা ফাইন্যান্সের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই বছরের ২৮ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটির মূল উদ্যোক্তা উত্তরা গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট পাঁচ পরিচালককে অপসারণ করা হয়। এর আগে একই বছরের জুনে প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম শামসুল আরেফিনকেও অপসারণ করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এবার চেয়ারম্যান, এমডিসহ চার পরিচালকের পদত্যাগের পর আবারো পর্ষদে কোরাম সংকট তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি প্রশাসক নিয়োগ করল।