ইসরাইলপন্থি প্রার্থীকে হারিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে আফগান বংশোদ্ভূত আয়েশা
ছবিঃ সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের বিশেষ সাধারণ নির্বাচনে জয় পেয়েছেন আফগান-আমেরিকান ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আয়েশা ওয়াহাব। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আরেক ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেলিসা হার্নান্দেজকে হারিয়ে তিনি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে জায়গা করে নিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে প্রথম আফগান-আমেরিকান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ওয়াহাব।
বিশেষ নির্বাচনে ওয়াহাব ৫৩ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন, আর হার্নান্দেজ পেয়েছেন ৪৭ শতাংশের কাছাকাছি ভোট। আসনটি সাবেক কংগ্রেস সদস্য এরিক সোয়ালওয়েলের পদত্যাগের পর শূন্য হয়। সোয়ালওয়েল যৌন অসদাচরণের অভিযোগের মধ্যে পদত্যাগ করেছিলেন, যদিও তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন।
আয়েশা ওয়াহাব ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সাবেক সিনেটর। তিনি রাজ্য আইনসভায় নির্বাচিত প্রথম আফগান-আমেরিকান এবং প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে পরিচিত। এবারের নির্বাচনে তিনি প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট হিসেবে প্রচার চালান এবং ফিলিস্তিন ও গাজা ইস্যুতে তুলনামূলকভাবে সমর্থনমূলক অবস্থান তুলে ধরেন।
অন্যদিকে মেলিসা হার্নান্দেজের প্রচারে ইসরাইলপন্থি রাজনৈতিক সংগঠন ও গোষ্ঠীগুলোর উল্লেখযোগ্য সমর্থন ছিল। ইসরাইলপন্থি একটি সুপার প্যাক তাঁর প্রচারে বিপুল অর্থ ব্যয় করে। নির্বাচনী প্রচারের শেষ পর্যায়ে দুই প্রার্থীর পেছনে কয়েক মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়, যার বড় অংশই হার্নান্দেজের পক্ষে খরচ হয়েছে।
জয়ের পর আয়েশা ওয়াহাব বলেন, বিপুল অর্থের প্রবাহ, আক্রমণাত্মক প্রচার এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের মধ্যেও তাঁর নির্বাচনী এলাকার মানুষ তাঁকে ভোট দিয়েছেন। স্থানীয় ভোটারদের এই আস্থাকে তিনি নিজের বিজয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিশেষ নির্বাচনের এই জয় ওয়াহাবকে আপাতত এরিক সোয়ালওয়েলের অবশিষ্ট মেয়াদ পূরণের সুযোগ দেবে। তবে পূর্ণ দুই বছরের মেয়াদের জন্য আগামী ৩ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনেও তাঁকে আবার মেলিসা হার্নান্দেজের মুখোমুখি হতে হবে। ওই নির্বাচনের ফলেই পরবর্তী পূর্ণ মেয়াদে কংগ্রেসে কে থাকবেন, তা নির্ধারিত হবে।
আয়েশা ওয়াহাবের বিজয় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতিতে আফগান-আমেরিকান ও মুসলিম প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ার রাজনীতিতে পরিচিত এই নেত্রী এবার সরাসরি মার্কিন কংগ্রেসে জায়গা করে নিলেন।
বিশেষ নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, আগামী নভেম্বরে একই দুই প্রার্থীর মধ্যে আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার এই আসনটি শুধু স্থানীয় রাজনীতি নয়, ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যনীতি নিয়েও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি