সাইয়েদুল ইস্তিগফারের অর্থ ও ফজিলত
প্রতীকী ছবি।
মানুষ ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। জীবনে নানা ধরনের গুনাহ ও অপরাধ হয়ে যেতে পারে। ইসলাম এ ধরনের ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার শিক্ষা দিয়েছে। ইস্তিগফার অর্থ হলো আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া।
ক্ষমা প্রার্থনার দোয়াগুলোর মধ্যে সাইয়েদুল ইস্তিগফার বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) এটিকে ইস্তিগফারের শ্রেষ্ঠ দোয়া হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সাইয়েদুল ইস্তিগফারের আরবি-
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي، فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
বাংলা উচ্চারণ-
আল্লাহুম্মা আনতা রব্বি, লা ইলাহা ইল্লা আনতা। খালাকতানি ওয়া আনা আবদুকা। ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতা‘তু। আউযু বিকা মিন শাররি মা সানা‘তু। আবূউ লাকা বিনি‘মাতিকা আলাইয়্যা, ওয়া আবূউ লাকা বিজাম্বি। ফাগফিরলি, ফা ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা আনতা।
বাংলা অর্থ-
‘হে আল্লাহ! আপনি আমার প্রতিপালক। আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনিই আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা। আমি আমার সাধ্য অনুযায়ী আপনার অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির ওপর রয়েছি। আমি যা করেছি তার অনিষ্ট থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই। আমার প্রতি আপনার যে নিয়ামত রয়েছে, তা আমি স্বীকার করছি এবং আমার গুনাহও স্বীকার করছি। অতএব, আমাকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি ছাড়া কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না।’
সাইয়েদুল ইস্তিগফারের ফজিলত-
এই ক্ষমা প্রার্থনার দোয়ার বিশেষ ফজিলত সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। হজরত শাদ্দাদ ইবনে আওস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এটি ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দোয়া।
হাদিসে আরও এসেছে, যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে সকালে এই দোয়া পাঠ করে এবং সন্ধ্যার আগে মারা যায়, সে জান্নাতিদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় তা পাঠ করে এবং সকাল হওয়ার আগে মারা যায়, সেও জান্নাতিদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৩০৬)
কখন এই দোয়া পড়বেন?
ইস্তিগফারের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়ের বাধ্যবাধকতা নেই। গুনাহের কথা মনে হলে কিংবা নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হলে যেকোনো সময় আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া যায়।
তবে হাদিসে এই আমল সকাল ও সন্ধ্যায় পাঠের বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। তাই প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় এটি পড়ার অভ্যাস করা যেতে পারে। দিনের শুরুতে এবং সন্ধ্যার সময়ে নিয়মিত এই আমল করলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার পাশাপাশি নিজের ভুল-ত্রুটির ব্যাপারেও সচেতনতা তৈরি হয়।
এই ইস্তিগফারের শিক্ষা-
এই দোয়ায় একজন বান্দা প্রথমে আল্লাহকে নিজের রব হিসেবে স্বীকার করেন। এরপর তার একত্বের সাক্ষ্য দেন, নিজের বান্দাত্বের কথা জানান এবং আল্লাহর দেওয়া নিয়ামত স্বীকার করেন। একই সঙ্গে নিজের গুনাহের কথাও স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
এর মাধ্যমে বান্দার বিনয়, অনুতাপ এবং আল্লাহর ওপর নির্ভরতার প্রকাশ ঘটে। তাই শুধু মুখে দোয়া পড়ার পাশাপাশি গুনাহ থেকে ফিরে আসা এবং সৎ জীবনযাপনের চেষ্টা করাও জরুরি।
কোরআন-সুন্নাহতে তওবা ও ইস্তিগফারের প্রতি বিশেষভাবে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। কোনো ভুল বা গুনাহ হয়ে গেলে হতাশ না হয়ে আল্লাহর রহমতের প্রতি আশাবাদী হয়ে তার কাছে ফিরে আসা উচিত। আন্তরিক তওবার মাধ্যমে বান্দা নিজের ভুল সংশোধনের সুযোগ পায়।
নিয়মিত ক্ষমা প্রার্থনা একজন মুমিনের আত্মশুদ্ধিরও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই অর্থ বুঝে, আন্তরিকতার সঙ্গে এই দোয়া পড়ার পাশাপাশি জীবনে এর শিক্ষা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা উচিত।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে বেশি বেশি তওবা ও ইস্তিগফার করার এবং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।