চীনের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান
সংগৃহীত
চীনের ইউনান প্রদেশের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে কুনমিংয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও চীনের বাজারের সঙ্গে সংযোগের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
শনিবার (২২ আগষ্ট) ‘কানেক্ট টু দ্য সাউথ, প্রসপার থ্রু ওপেন-কোঅপারেশন’ প্রতিপাদ্যে কুনমিংয়ের দ্য জেনারেল অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনান এন্টারপ্রেনারসে আয়োজিত ‘ওভারসিজ ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ট্রেড অ্যানভায়রনমেন্ট প্রমোশন ইভেন্ট’-এ বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে কুনমিংয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) রিদওয়ানুর রহমান ‘বাংলাদেশ অ্যাজ অ্যান ইনভেস্টমেন্ট ডেস্টিনেশন’ শীর্ষক উপস্থাপনা দেন।
তিনি বলেন, “প্রতিযোগিতামূলক শ্রমশক্তি, শিল্পভূমি, জ্বালানি সুবিধা, শতভাগ বিদ্যুতায়ন এবং ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সম্ভাবনাময় গন্তব্য। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও চীনের মধ্যে সংযোগকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ চীনা উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করতে পারে।”
রিদওয়ানুর রহমান বলেন, “আলোচনাধীন কুনমিং–চট্টগ্রাম করিডোর বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিম চীন থেকে বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে পৌঁছানোর একটি সম্ভাবনাময় বাণিজ্যপথ তৈরি হতে পারে। এতে ইউনানের উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।”
উপস্থাপনায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে শতভাগ মালিকানা, মূলধন ও মুনাফা প্রত্যাবাসনের সুযোগের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি চীনসহ ৩৪টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তির কথা উল্লেখ করা হয়।
এ সময় চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নির্মাণাধীন চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) ওয়ান স্টপ সার্ভিস, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল ও হাই-টেক পার্কের সুযোগ তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে চার বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্ভাবনাময় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) প্রকল্পের কথাও উদ্যোক্তাদের জানানো হয়।
বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে তৈরি পোশাক, ওষুধ, ইলেকট্রনিকস, বৈদ্যুতিক যানবাহন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, লজিস্টিকস ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবার কথা তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ, জ্বালানি সংরক্ষণ প্রযুক্তি ও সবুজ নির্মাণে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে জানানো হয়।
অনুষ্ঠান শেষে ইউনানের উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে কনস্যুলেটের বাণিজ্যিক উইংয়ের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইউনান ছাড়াও সিচুয়ান, চংকিং, গুইঝো ও গুয়াংশি অঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরো জোরদারে কাজ করা হচ্ছে।