ঠিকাদারি কাজের প্রলোভনে ৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ: মূলহোতা গ্রেপ্তার

ঠিকাদারি কাজের প্রলোভনে ৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ: মূলহোতা গ্রেপ্তার

ফাইল ছবি

ঠিকাদারি কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মূলহোতা জাহাঙ্গীর আলম ওরফে জাবেদকে গ্রেপ্তার করেছে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

শনিবার রাতে রাজধানীর কাওরান বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন পিবিআই নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল রাশেদ।

পিবিআই সূত্র জানায়, মামলার বাদী মো. মিজানুর রহমান পেশায় একজন ঠিকাদার। ২০২২ সালে তার সঙ্গে জাহাঙ্গীর আলমের পরিচয় হয়। নিজেকে ঠিকাদার পরিচয় দিয়ে জাহাঙ্গীর রাজধানীর উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরে ‘ওরিয়ান কনস্ট্রাকশন’ নামে একটি কার্যালয় ভাড়া নেন। সেখানে একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ছয়জন প্রকৌশলীসহ ১৫ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র গড়ে তোলেন তিনি।

চক্রটি ঢাকা সিটি করপোরেশনের সড়কবাতি স্থাপন, সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন, বিমানবন্দরের বাতি স্থাপন, বালু ভরাট এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে পাথর সরবরাহসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রকল্পে অংশীদার করার কথা বলে ব্যবসায়ীদের প্রলুব্ধ করত।

এভাবে প্রলোভিত হয়ে মিজানুর রহমান চেকের মাধ্যমে চক্রটির সদস্যদের ৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা দেন। টাকা পাওয়ার পরপরই চক্রটি তাদের কার্যালয় বন্ধ করে দেয়। ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরগুলোও বন্ধ করে তারা আত্মগোপনে চলে যায়।

এ ঘটনায় ফতুল্লা থানায় মামলা হলে গত ১০ আগস্ট মামলাটির তদন্তভার নেয় পিবিআই নারায়ণগঞ্জ। পরে তথ্যপ্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জাহাঙ্গীরের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর পিবিআইয়ের এসআই মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে শনিবার রাতে কাওরান বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তারের পর জাহাঙ্গীর আলমকে এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। এছাড়া ভিন্ন পরিচয়ে তাঁর নামে ১০ থেকে ১২টি ব্যাংক হিসাব, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র এবং একাধিক মোবাইল নম্বর ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে।

পিবিআই নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল রাশেদ বলেন, তদন্তে জাহাঙ্গীর আলমকে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মূলহোতা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন সক্রিয় সদস্য জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁরা স্বনামধন্য ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন প্রকল্পের কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিতেন।

তিনি আরও বলেন, চক্রটির অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। মামলায় জড়িত অন্য আসামিদেরও শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।