অ্যাকুরিয়াম থেকে সোজা সাগরে: বিপন্ন লেপার্ড হাঙ্গর বাঁচাতে অবিশ্বাস্য লড়াই

অ্যাকুরিয়াম থেকে সোজা সাগরে: বিপন্ন লেপার্ড হাঙ্গর বাঁচাতে অবিশ্বাস্য লড়াই

সংগৃহীত ছবি

ইন্দোনেশিয়ার রাজা আম্পাট দ্বীপপুঞ্জের ক্রি দ্বীপের কাছে ডুব দিলেই এখন চোখে পড়ে এক মিটার লম্বা ফুটকিওয়ালা লেপার্ড হাঙ্গরের দল। সমুদ্রের তলদেশে তাদের এমন অবাধ বিচরণ দেখে খুশি পরিবেশবাদীরা। কারণ, বছর দশেক আগেও এখানে এই প্রজাতির হাঙ্গর খুব একটা চোখে পড়ত না।

ইন্দো-প্যাসিফিক লেপার্ড শার্ক বা জেব্রা শার্ক একসময় প্রশান্ত মহাসাগর, লোহিত সাগর, পূর্ব আফ্রিকা, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রবাল প্রাচীরগুলোতে প্রচুর দেখা যেত। কিন্তু গত তিন প্রজন্মে (প্রায় ৫৭ থেকে ৭২ বছর) এদের সংখ্যা ৫০ থেকে ৭৯ শতাংশ কমে গেছে। মূলত নির্বিচারে শিকার এবং এদের বাসযোগ্য পরিবেশ ধ্বংস হওয়ার কারণেই ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) এই প্রজাতিটিকে ‘বিপন্ন’ বলে ঘোষণা করেছে।

এই হাঙ্গরগুলোকে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে বিশ্বের প্রথম ‘হাঙ্গর রিওয়াইল্ডিং’ বা বন্য পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রকল্প শুরু করেছে ‘রিশার্ক’ নামের একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন। তাদের ‘স্টার’ প্রকল্পের আওতায় বিশ্বের বিভিন্ন অ্যাকুরিয়ামে এই হাঙ্গরের ডিম ফুটানো হয় এবং পরে বাচ্চাগুলোকে ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের সংরক্ষিত সাগরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

রিশার্ক-এর নির্বাহী পরিচালক মার্ক এর্ডম্যান জানান, সিঙ্গাপুরের একটি অ্যাকুরিয়ামে প্রচুর লেপার্ড হাঙ্গরের ছানা দেখে তিনি এই প্রকল্পের কথা প্রথম ভাবেন। তিনি বলেন, সাধারণত হাঙ্গর সংরক্ষণে অভয়াশ্রম তৈরি বা মাছ ধরা নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়, তবে আমরা সরাসরি এদের সংখ্যা বাড়ানোর কাজ করছি।

এই প্রকল্পের অন্যতম চমক হলেন ‘শার্ক ন্যানি’ বা হাঙ্গরের আয়া। অ্যাকুরিয়ামের এই বিশেষ প্রশিক্ষিত কর্মীরা ডিম থেকে বাচ্চা ফোটা থেকে শুরু করে সাগরে ছেড়ে দেওয়ার আগ পর্যন্ত এদের যত্ন নেন। স্থানীয় বাসিন্দাদেরই এই কাজের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যাতে তারা হাঙ্গর শিকারে নিরুৎসাহিত হন।

তবে কিছু বিশেষজ্ঞ এই প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদী সফলতা নিয়ে সন্দিহান। সান জোস স্টেট ইউনিভার্সিটির ডেভিড এবার্ট মনে করেন, এটি একটি দারুণ বিজ্ঞান প্রকল্প হলেও সাগরে ছেড়ে দেওয়া এই হাঙ্গরগুলো কতদিন বাঁচবে বা তারা নিজেদের বংশবৃদ্ধি করতে পারবে কি না—সেটি বড় প্রশ্ন।

সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে রিশার্ক কর্তৃপক্ষ আশাবাদী। তারা জানায়, হাঙ্গরগুলোকে সংরক্ষিত অঞ্চলেই ছাড়া হয় এবং স্থানীয়রাও এদের রক্ষায় এগিয়ে এসেছেন। ২০২৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৮২টি হাঙ্গরের বাচ্চা সাগরে ছাড়া হয়েছে এবং এদের বেঁচে থাকার হারও বেশ ইতিবাচক।