আমানত ফেরত ও মুনাফার দাবিতে প্রাইম ফাইন্যান্স গ্রাহকদের বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন
ফাইল ছবি
প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের (পিএফআইএল) বিরুদ্ধে আমানত ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন একদল আমানতকারী। মূল টাকা ও বকেয়া মুনাফা ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
‘প্রাইম ফাইন্যান্স ইনভেস্টরস গ্রুপ’ (পিএফআইজি) নামের একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে ২৪ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে এ বিষয়ে লিখিত আবেদন করা হয়। আবেদনে পিএফআইএলের বিরুদ্ধে আমানতকারীদের সঙ্গে প্রতারণা ও নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আবেদনকারীদের অভিযোগ, তারা পিএফআইএলে স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ও ডিপিএসের মাধ্যমে অর্থ জমা রেখেছিলেন। এসব আমানতের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অর্থ ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করেও তারা মূল টাকা ও মুনাফা পাচ্ছেন না। পাওনা অর্থের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সন্তোষজনক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের।
আবেদনে বলা হয়, আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও পিএফআইএল তা লঙ্ঘন করছে বলে তারা মনে করছেন। এ পরিস্থিতিতে আমানতকারীরা পিএফআইজি নামে একটি কমিটি গঠন করে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন।
আমানতকারীদের আবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৭ জুন অনুষ্ঠিত এক সভায় তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশ্বাস দিয়েছিলেন, জুলাই থেকে আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধ শুরু হবে। কিন্তু, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। পরে ৯ জুলাই নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকেও অর্থ পরিশোধের বিষয়টি আলোচনা হয়।
ওই আবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২৮ জুনের একটি নির্দেশনার উল্লেখ করে বলা হয়েছে, পিএফআইএলকে স্ব-সংশোধনমূলক ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ১০০ কোটি টাকা মূলধন বিনিয়োগ, ৫৭০ কোটি টাকার তারল্য সহায়তা, আমানতকারীদের পাওনা পরিশোধে প্রায় ২৬৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা সংগ্রহের জন্য সম্পদ বিক্রি এবং খেলাপি ঋণ থেকে ৪০ কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনার কথা ছিল।
আমানতকারীদের দাবি, এসব উদ্যোগের বিষয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতির উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি তারা দেখতে পাচ্ছেন না।
তাদের অভিযোগ, এখনো উল্লেখযোগ্য অর্থ পরিশোধ হয়নি, সম্পদ বিক্রির কার্যক্রম স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়নি এবং মূলধন বিনিয়োগও হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তিন মাসের সময়সীমা সেপ্টেম্বরের শেষে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তারা কার্যকর অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছেন না।
আবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, গত ১৩ আগস্ট আমানতকারীদের একটি বড় দল পিএফআইএলের উত্তরার নিবন্ধিত কার্যালয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যায়। তবে, তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে আমানতকারীরা পিএফআই টাওয়ারের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রচারিত হলেও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে আবেদনে দাবি করা হয়েছে।
আমানতকারীরা বলছেন, তাদের অনেকের জীবনের সঞ্চয় পিএফআইএলে আটকে আছে। এর ফলে সন্তানদের ভরণপোষণ, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যয় মেটাতেও তারা সমস্যায় পড়েছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পিএফআইএলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, আমানতকারীদের অর্থ সুরক্ষায় প্রশাসক নিয়োগ এবং বিশেষ তহবিল গঠনের দাবি জানিয়েছেন তারা। একইসঙ্গে দ্রুততম সময়ে মূল আমানত ও বকেয়া মুনাফা ফেরত এবং মাসিক মুনাফা পরিশোধের ব্যবস্থা করার অনুরোধ করা হয়েছে।