কক্সবাজারে মদের বারে ছুরিকাঘাতে ব্যবসায়ীর মৃত্যু
প্রতিকী ছবি
কক্সবাজারে হোটেলের বারে মদ খাওয়ার পর বাগবিতণ্ডার জেরে ছুরিকাঘাতে এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।হত্যায় জড়িত সন্দেহে এক যুবকও গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ড ঝাউতলায় হোটেল রেনেসাঁর বারে প্রথম খুনের ঘটনা ঘটে। আর প্রহৃত যুবককে পুলিশে দেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. অহিদুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নিহত ব্যবসায়ী রাশেদুল হক রাশেদ (২৮) কক্সবাজার পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নুনিয়ারছরা এলাকার মৃত জয়নাল কোম্পানির ছেলে। চার ভাইয়ের মাঝে রাশেদ তৃতীয় ছিলেন। তিনি মেঝ ভাইয়ের সঙ্গে বাবার ব্যবসা পরিচালনা করতেন। আর গণপিটুনিতে নিহত সালমান শহরের বিজিবি ক্যাম্প এলাকার বাসিন্দা।
হোটেল কর্তৃপক্ষের বরাতে পুলিশ জানায়, রাশেদসহ কয়েকজন যুবক বারে বসে মদ পান করছিলেন। এ সময় হঠাৎ নিজেদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। পরে উভয়পক্ষের আরও কয়েকজন যোগ দেয়। এতে প্রথমে রাশেদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাজওয়ার হক রাদির নেতৃত্বে এক পক্ষ। সেখানে ঝগড়া নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন সালমান। কিন্তু রাদিররা পালিয়ে যাওয়ায় হত্যায় সংযুক্ত সন্দেহে নিহত রাশেদের লোকজন প্রথম দফায় বারের সামনে পিটিয়ে আহত করে সালমানকে।
এরপর তারা সালমানকে পেটাতে পেটাতে ফিশারীঘাট এলাকায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে মারা যান সালমান।
তবে রাশেদের পরিবার জানায়, ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে পাওনাদারসহ রেনেসাঁয় বসেছিলেন রাশেদ। টাকার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়ে থাকতে পারে। তবে তা হত্যার পর্যায়ে যাওয়ার মতো কী হয়েছিল তা তারা নির্ণয় করতে পারছেন না। কার সঙ্গে কী পাওনা সে বিষয়ে খোলাসা করে কিছু জানাতে পারেননি তারা।
কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ঘটনার আসল কারণ উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত রাশেদ ও পরে হাসপাতালে মারা যাওয়া সালমানের মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। দুজনেরই ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ ও আলামত জব্দ করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। অনুমোদন ছাড়াই হিসেবে চলছিল বারটি, তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।