৩ ধরনের মানুষের থাইরয়েড ঝুঁকি বেশি

৩ ধরনের মানুষের থাইরয়েড ঝুঁকি বেশি

ফাইল ছবি

থাইরয়েডের সমস্যা নারী-পুরুষ উভয়েরই হতে পারে। তবে পুরুষের তুলনায় নারীদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কয়েক গুণ বেশি। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষের তুলনায় নারীরা প্রায় ৫ থেকে ৮ গুণ বেশি থাইরয়েড সমস্যায় ভোগেন। প্রতি ১০০ জন পুরুষের মধ্যে যেখানে প্রায় একজনের এ সমস্যা দেখা দিতে পারে, সেখানে নারীদের ক্ষেত্রে সংখ্যাটি হতে পারে ৫ থেকে ৮ জন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের থাইরয়েড সমস্যার সঙ্গে হরমোনের পরিবর্তনের সম্পর্ক রয়েছে। নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের মতো হরমোনের মাত্রায় বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তন ঘটে। এসব হরমোনের ভারসাম্যে তারতম্য হলে থাইরয়েডের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়তে পারে।

থাইরয়েডের সমস্যাকে সাধারণত দুটি ভাগে দেখা হয়—হাইপারথাইরয়েডিজম ও হাইপোথাইরয়েডিজম। শরীরে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি থাইরয়েড হরমোন তৈরি হলে তাকে হাইপারথাইরয়েডিজম এবং কম তৈরি হলে হাইপোথাইরয়েডিজম বলা হয়। আমেরিকান থাইরয়েড অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বেড়ে গেলে থাইরয়েড হরমোনের কার্যকারিতায় প্রভাব পড়তে পারে।

গলার সামনের অংশে স্বরযন্ত্রের নিচে এবং শ্বাসনালির ওপর থাইরয়েড গ্রন্থির অবস্থান। প্রজাপতির মতো দেখতে এই গ্রন্থির দুই পাশে দুটি লতি থাকে, যা মাঝখানের একটি সরু অংশ দিয়ে যুক্ত। থাইরয়েড থেকে নিঃসৃত হরমোন শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি শারীরিক বৃদ্ধি, মস্তিষ্কের বিকাশ, ঋতুচক্র ও গর্ভধারণের মতো বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াতেও এর প্রভাব রয়েছে।

নারীদের থাইরয়েড সমস্যার ঝুঁকি বাড়ার পেছনে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য, জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে হরমোনের পরিবর্তন এবং বংশগত কারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

যারা বেশি ঝুঁকিতে

গর্ভবতী নারী ও সন্তান প্রসবের পরের সময়: গর্ভাবস্থা এবং সন্তান প্রসবের আগে-পরে শরীরে বড় ধরনের হরমোনগত পরিবর্তন হয়। এ সময় থাইরয়েড সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

মধ্যবয়সি ও বয়স্ক ব্যক্তি: বয়স বাড়ার সঙ্গে থাইরয়েডের সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। বিশেষ করে মেনোপজের পর এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সে নারীদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

পারিবারিক ইতিহাস থাকলে: পরিবারের বাবা-মা, ভাই-বোন বা নিকটাত্মীয়দের থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে অন্য সদস্যদেরও এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

থাইরয়েডের সমস্যা অনেক সময় ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। তাই অস্বাভাবিক ক্লান্তি, ওজনের পরিবর্তন, হৃদস্পন্দনে অস্বাভাবিকতা, অতিরিক্ত ঘাম বা ঠান্ডা লাগা, মাসিকের অনিয়মসহ কোনো উপসর্গ দেখা দিলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। 

প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করা জরুরি।