৩ হাজার নিখোঁজ, মরদেহ সংরক্ষণে ফ্রিজার চেয়ে সহায়তা চাইছে নেপাল
ছবিঃ সংগৃহীত।
নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানি ৬০০ ছাড়িয়েছে। দুর্গত বিভিন্ন এলাকায় এখনো প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিখোঁজ।এর মধ্যেই নতুন করে বড় সংকটে পড়েছে দেশটির উদ্ধার ও ত্রাণব্যবস্থা। বন্যায় নিহতদের মরদেহ দ্রুত পচে যাওয়ার আশঙ্কায় সংরক্ষণের জন্য বিদেশি দেশগুলোর কাছে ফ্রিজার চেয়ে সহায়তা কামনা করেছে নেপাল।
শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শশীর খানাল বলেন, বন্যায় নিহতদের মরদেহ দ্রুত পচে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এসব মরদেহ সংরক্ষণে ফ্রিজার সরবরাহের জন্য বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো দেশ থেকে নিশ্চিত প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি।
দুর্যোগের সর্বশেষ হিসাবে নেপাল ও চীনে ৬০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
এর মধ্যে নেপালেই নিহতের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়েছে। চীনের অংশে অন্তত সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দুই দেশের সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকাগুলোতে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৩ হাজার মানুষ।
নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালাতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন উদ্ধারকারীরা।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কিছু এলাকায় সড়কপথে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এসব স্থানে কেবল হেলিকপ্টারের মাধ্যমে যাওয়া যাচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও সরু পাহাড়ি গিরিখাত পেরিয়ে হেলিকপ্টার চালাতে হচ্ছে।
এ কারণে উদ্ধার কাজে ব্যবহৃত নেপালি হেলিকপ্টারগুলোকেও অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সংকীর্ণ গিরিখাত দিয়ে একসঙ্গে প্রবেশের সুযোগ না থাকায় সেখানে একাধিক হেলিকপ্টারকে সারিতে থাকতে হচ্ছে বলে জানান খানাল।
দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকাজ আরও জোরদার করতে প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছ থেকে বিশেষায়িত সহায়তাও চেয়েছে নেপাল। ভারতের কাছ থেকে সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে পড়া মানুষ উদ্ধারে দক্ষ ১১ জন কর্মী পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে। চীন থেকেও এ ধরনের বিশেষজ্ঞ কর্মী পাঠানোর কথা রয়েছে।
নেপাল সরকার প্রতিবেশী ও অন্যান্য সহযোগী দেশের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। তবে বিপর্যয়ের ব্যাপকতা এবং দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে উদ্ধারকাজ এখনও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
এর মধ্যে মরদেহ শনাক্ত ও সংরক্ষণ নিয়েও পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া এবং বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়া মরদেহ উদ্ধার করে পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। কিন্তু মরদেহের সংখ্যা বাড়তে থাকায় সেগুলো নিরাপদে সংরক্ষণ করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।
নেপালের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, যথাযথ সংরক্ষণের ব্যবস্থা না হলে মরদেহ দ্রুত পচে যেতে পারে। এ কারণে উদ্ধার অভিযান চালানোর পাশাপাশি মরদেহ সংরক্ষণ ও শনাক্ত করার ব্যবস্থাকেও এখন জরুরি অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে নতুন করে আরও বৃষ্টির আশঙ্কায় দুর্গত এলাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি বন্যাকবলিত অঞ্চলে তৈরি হওয়া নতুন জলাধারগুলোও নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এসব জলাধারের পানি বেড়ে গেলে আবারও বন্যার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
নেপালের বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধারকারী দল, সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিখোঁজদের সন্ধান ও মরদেহ উদ্ধারে কাজ করছেন। দুর্গম এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।