অর্থনীতির নতুন দুয়ার চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া টার্মিনাল

অর্থনীতির নতুন দুয়ার চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া টার্মিনাল

সংগৃহীত ছবি

প্রথমবারের মতো দেশে সম্পূর্ণ বিদেশি বিনিয়োগে নির্মিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল।কর্ণফুলী নদীর তীর ঘেঁষে লালদিয়া এলাকায় টার্মিনালটি তৈরি করবে ডেনমার্কের বিশ্বসেরা বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস

নির্মাণের পাশাপাশি তারা একটি নির্দিষ্ট সময় এই টার্মিনাল পরিচালনাও করবে। প্রকল্পে ৭৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। পাবলিক-পাইভেট পার্টনারশিপের আওতায় প্রকল্পটি নির্মিত হবে ।

জানা গেছে, লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল হবে বিশ্বের অত্যাধুনিক বন্দর যেখানে ব্যবহার করা হবে প্রযুক্তিনির্ভর হ্যান্ডলিং সরঞ্জামাদি। আগামীকাল রবিবার (৩০ আগস্ট) টার্মিনালটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ।

পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে জি-টু-জি ভিত্তিতে নেওয়া প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শেষে ২০৩০ সালে পণ্য হ্যান্ডলিং শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তখন চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে আরও ৯ লাখ টিইইউএস (২০ ফুট সমমান)। গত অর্থবছরে (২০২৫-২৬) এ বন্দর বর্তমান অবকাঠামো ব্যবহার করে ৩৫ লাখ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে।

টার্মিনালটি ঘিরে এরইমধ্যে ব্যবসায়ীমহলে দেখা দিয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতুহল। তারা বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের গতি বাড়াতে লালদিয়া টার্মিনাল গুরুত্বর্পূূ ভূমিকা রাখবে। নতুন টার্মিনালে আরও গতিশীল হবে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য। বিশেষ করে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে সময় কমে আসবে। ব্যবসা-ব্যয় কমার আশাও করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে এটি হবে বন্দরের জন্য গেম চেঞ্জার। দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য তথা অর্থনীতির এক নতুন দুয়ার।

সূত্র জানায়, লালদিয়া টার্মিনালে থাকবে ৭টি শিপ টু শোর (এসটিএস) গ্যান্ট্রি ক্রেন, ৩২টি ইলেকট্রিক রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন (ইআরটিজিএস) এবং ৪১টি ইলেকট্রিক টার্মিনাল ট্র‍াক্টর। ৫৯ দশমিক ১৫ একর জায়গায় হবে টার্মিনালটি। এর মধ্যে ৩২ একরে মূল টার্মিনাল,৭ দশমিক ১৫ একরে কনটেইনার ইয়ার্ড এবং ১০ একরে ট্রাক পার্কিং থাকবে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানটি ৩০ বছর মেয়াদে টার্মিনাল পরিচালনা করবে। প্রয়োজনে এই সময় বাড়তে পারে আরও ১৫ বছর। ৬১৩ মিটারের জেটিতে ভিড়তে পারবে ১০ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফট ও ৬ হাজার টিইইউএস ধারণক্ষমতার বড় জাহাজ।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এপিএম টার্মিনালস থেকে এককালীন ২৫ মিলিয়ন ডলার পেয়েছে। বছরে পাবে আড়াই লাখ ডলার কনসেশন ফি। এছাড়া কনটেইনার প্রতি বন্দর পাবে ২৩ মার্কিন ডলার।

লালদিয়া টার্মিনালকে স্বাগত জানিয়ে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালস চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া টার্মিনালে ৭৬০ মিলিয়ন ইউএস ডলার বিনিয়োগ করছে। বিশ্বের সেরা একটি কোম্পানি বাংলাদেশে গ্রিন ফিল্ড প্রজেক্ট করছে, এটা আমাদের জন্য গৌরবের। আমি সবসময় বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ এবং বাংলাদেশে ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্টকে (এফডিআই) স্বাগত জানাই।

এদিকে চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য এপিএম টার্মিনালসের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) চেম্বার পরিচালকমণ্ডলী ও সর্বস্তরের ব্যবসায়ী সমাজের  পক্ষে এপিএম টার্মিনালস চেয়ারম্যান রবার্ট মার্সক উগ্লাকে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

চেম্বার সভাপতি ঠিঠিতে বলেন, এপিম টার্মিনালসের বিনিয়োগ বিশ্ব দরবারে একটি নিরাপদ ও লাভজনক বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করবে। এই প্রকল্পের সুদূরপ্রসারী প্রভাব কেবল একটি টার্মিনাল নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ টার্মিনাল অপারেটরের উপস্থিতি বাংলাদেশে আরও বেশি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।