হবিগঞ্জে হামের প্রকোপ, ২০ শয্যার ওয়ার্ডে ৭৫ রোগী
প্রতিকি ছবি
দিন দিন বাড়ছে হবিগঞ্জে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ২৫০ শয্যা জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালের নির্ধারিত হাম ওয়ার্ডে জায়গা না পেয়ে রোগীদের হাসপাতালের মেঝে ও সিঁড়িতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরাও।
২৫০ শয্যা জেলা সদর আধুনিক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাম আক্রান্ত রোগীদের জন্য হাসপাতালে ২০ শয্যার পৃথক ওয়ার্ড স্থাপন করা হয়েছে।
তবে বর্তমানে ওই ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন ৭৫ জন রোগী। ফলে জায়গার সংকটে অনেক রোগীকে মেঝে ও সিঁড়িতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, এ পর্যন্ত হাম আক্রান্ত মোট ২ হাজার ৪০২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২ হাজার ৩০৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
উন্নত চিকিৎসার জন্য ৯২ জন রোগীকে সিলেট ও ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
সরেজমিনে হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, মাত্র ২০ শয্যার ওয়ার্ডে বিপুলসংখ্যক রোগী গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। রোগীর চাপে ওয়ার্ডের মেঝেতেও জায়গা নেই। ফলে অনেক রোগী ও তাঁদের স্বজনকে শিশুদের নিয়ে হাসপাতালের সিঁড়িতে অবস্থান করতে দেখা যায়।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও প্রয়োজনীয় ওষুধ বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। তাঁদের একজন বলেন, “এত কষ্ট করে রোগী নিয়ে হাসপাতালে পড়ে রয়েছি। অথচ হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না। সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। ”
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হবিগঞ্জ জেলায় হাম আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
তাদের বেশিরভাগই সিলেট অথবা ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাহবুব রহমান নামে ১৪ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বাসিন্দা।
হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আমিনুল হক সরকার বলেন, রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় চিকিৎসক ও নার্সদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। হাম প্রতিরোধে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, শরীরে লালচে দানা, কাশি কিংবা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।