লৌহজংয়ে তীব্র নদীভাঙন, ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্কে শতাধিক পরিবার
সংগৃহীত ছবি
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার গাঁওদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম গাঁওদিয়া এলাকায় হঠাৎ তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ঝড়ো হাওয়া, বৃষ্টি, নদীর পানি বৃদ্ধি, প্রবল স্রোত ও ঘূর্ণিপাকে নদীতীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ এলাকায় ফেলা জিও ব্যাগ সরে যাওয়ায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে নদীতীরবর্তী শতাধিক পরিবার ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্কে রয়েছেন।
ভাঙনের তীব্রতা বাড়ায় নদীর পাড়সংলগ্ন কয়েকটি পরিবার ইতোমধ্যে ঘরবাড়ি ও গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। ঝুঁকিতে রয়েছে বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি, স্থানীয় সড়ক, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু। তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা সাধ্যমতো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। আপাতত জিও ব্যাগ ও ব্লক ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পদ্মার পানি বৃদ্ধি ও প্রবল স্রোতের পাশাপাশি ঘূর্ণিপাকে নদীর তীর ধসে পড়ছে। ভাঙনের আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন। সুরুজ বেপারির ঘরও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সোমবার সকাল থেকে হঠাৎ নদীর তলদেশে ভাঙন শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই নদীতীরবর্তী বিপুল পরিমাণ জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নদীর পাড়সংলগ্ন প্রায় ২০০ ফুট এলাকা ভেঙে নদীতে চলে গেছে। এতে আশপাশের বসতবাড়ি, সড়ক ও ফসলি জমি চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
পশ্চিম গাঁওদিয়া এলাকার বাসিন্দা শাহ আলম বলেন, হঠাৎ পদ্মার পানির তীব্র স্রোতে পাড় ধসে পড়তে শুরু করেছে। চোখের সামনে জমি-জমা নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া না হলে তাঁদের ভিটেমাটি হারাতে হবে। আরেক বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন, সোমবার দুপুর ১২টার পর থেকে ভাঙন শুরু হয়েছে। জিও ব্যাগসহ বেশ কিছু জমি চোখের সামনে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন আর একটু এগোলেই সড়কটিও নদীতে চলে যাবে। এতে তাঁরা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রাবেয়া বলেন, বসতভিটা ভেঙে গেলে তাঁদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। শেষ সম্বলটুকু হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন তারা। গাঁওদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তোবারক ঢালী বলেন, দুপুরের জোয়ারের পানির সঙ্গে প্রায় ২০০ ফুট এলাকা নদীতে ভেঙে গেছে। সকালেও যে স্থানে শুকনো ছিল, সেখানে এখন লগি ফেলে ৩০ হাতের বেশি গভীরতা পাওয়া যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীভাঙন ঠেকাতে এর আগে ফেলা জিও ব্যাগের একটি অংশ প্রবল স্রোত ও ঘূর্ণিপাকে সরে যাওয়ায় ভাঙন আরও বেড়েছে। জরুরি ভিত্তিতে নতুন করে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানো না গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
দীর্ঘমেয়াদে পশ্চিম গাঁওদিয়া এলাকাকে পদ্মার ভাঙন থেকে রক্ষা করতে নদীতীরে স্থায়ীভাবে ব্লক স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। লৌহজং পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, সকালে ঘটনাস্থলে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।