সিরাজগঞ্জে থাইল্যান্ডের কানিয়া তরমুজ চাষে সফল হাসিবুর
সংগৃহীত ছবি
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে থাইল্যান্ডের কানিয়া জাতের তরমুজ চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখছেন কৃষক হাসিবুর রহমান। অল্প জমিতে তুলনামূলক কম খরচে উচ্চমূল্যের এ তরমুজ চাষ করে ভালো লাভের আশা করছেন তিনি।
হাসিবুর রহমান উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের মুগবেলাই উত্তরপাড়া এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে। গত তিন বছর ধরে তিনি কানিয়া জাতের তরমুজ চাষ করছেন। চলতি বছর ২০ শতক জমিতে এ তরমুজ আবাদ করেছেন। জমি প্রস্তুত, চারা, সার, কীটনাশক ও পরিচর্যাসহ তাঁর মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। ফলন ও বাজারদর ভালো থাকলে এ জমি থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা লাভ হবে বলে আশা করছেন তিনি।
কৃষক হাসিবুর রহমান বলেন, স্থানীয় এনজিওর মাধ্যমে থাইল্যান্ডের কানিয়া তরমুজের বীজ সংগ্রহ করেছি। দেখতে আকর্ষণীয় ও স্বাদে ভালো হওয়ায় বাজারে এ তরমুজের চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি তরমুজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি করা যাচ্ছে। অল্প জমিতে তুলনামূলক কম খরচে ভালো লাভ হওয়ায় গত তিন বছর ধরে এ জাতের তরমুজ চাষ করছি।
তবে কৃষি বিভাগের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন হাসিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘তিন বছর ধরে কানিয়া তরমুজ চাষ করছি। নিজের অভিজ্ঞতা ও পরিশ্রম দিয়েই চাষাবাদ করছি। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সুযোগ-সুবিধা বা পরামর্শ পাইনি। কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা করলে আরও ভালোভাবে চাষ করতে পারতাম।’
স্থানীয় কৃষকেরা বলেন, নতুন জাতের তরমুজ চাষে সঠিক পরামর্শ, আধুনিক প্রযুক্তি ও সরকারি সহযোগিতা পাওয়া গেলে এ অঞ্চলে এটি লাভজনক ফসল হিসেবে আরও জনপ্রিয় হতে পারে। স্বল্প জমিতে বেশি লাভের সম্ভাবনা থাকায় বেকার যুবক ও ক্ষুদ্র কৃষকদেরও এ ধরনের উচ্চমূল্যের ফসল চাষে আগ্রহী করা সম্ভব।
কামারখন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরিদ হোসাইন বলেন, হাইব্রিড জাতের কানিয়া তরমুজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর ভেতরের অংশ হলুদ এবং স্বাদে বেশ মিষ্টি। অসময়ে এ জাতের তরমুজ চাষ করায় বাজারে এর চাহিদা বেশি থাকে এবং কৃষকেরা ভালো দাম পেয়ে থাকেন।
তিনি আরও বলেন, তরুণদের কৃষির প্রতি আগ্রহী হয়ে লাভজনক ফসল আবাদে এগিয়ে আসতে হবে। স্বল্প খরচে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করে কৃষিতে ভালো আয় করা সম্ভব। কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী কৃষি বিভাগ পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছে এবং ভবিষ্যতেও কৃষকদের পাশে থাকবে।