প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে নিত্যপণ্য নিলেন হাজারো নাগরিক
ফাইল ছবি
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে বাসাবাড়ির প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করেছেন হাজারো নাগরিক। পরিচ্ছন্ন নগর গঠন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিকদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রায় সহায়তার লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে ‘বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার’ কর্মসূচিতে এ আয়োজন করা হয়।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের আশরাফাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অস্থায়ী এ বাজার বসে। এতে এলাকার বাসিন্দারা তাদের বাসাবাড়ির প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিসপত্র সংগ্রহ করেন। কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। ‘বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার’ নাগরিকদের সেই অংশগ্রহণে উৎসাহিত করার একটি কার্যকর মডেল। তিনি বলেন, ড্রেন ও নালা-নর্দমায় প্লাস্টিকসহ অন্যান্য বর্জ্য ফেলার কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য জমা দিলে জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষাও নিশ্চিত হবে।
এই উদ্যোগ পুরো নগরীতে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রশাসক বলেন, শিগগিরই ডিএসসিসির উদ্যোগে গুলিস্তানে একটি স্থায়ী স্টল স্থাপন করা হবে। পর্যায়ক্রমে ডিএসসিসির প্রতিটি ওয়ার্ডেও এ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের (এসটিএস) সুবিধাজনক স্থানে পথশিশুদের শিক্ষার সুযোগ তৈরিতে চেয়ার-টেবিল ও বইসহ ‘বই পড়ার বিনিময়ে খাবার’ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। বক্তব্যের শেষে কামরাঙ্গীরচরবাসীকে বুড়িগঙ্গা নদী রক্ষা, নদী দখলমুক্ত রাখা এবং যত্রতত্র বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানান প্রশাসক।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে শুধু সহায়তা না দিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অংশীদার করা হচ্ছে। গত দুই বছরে সংগৃহীত প্লাস্টিক বর্জ্য বিক্রি করে প্রায় ১ কোটি টাকা আয় হয়েছে। এ অর্থ দিয়ে প্রায় ৪ লাখ মানুষকে আহার করানো সম্ভব হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় আগামী এক বছরে ১০০টি ভ্রাম্যমাণ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদার, সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকরা উপস্থিত ছিলেন।