ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, বিমানবন্দর বন্ধ
সংগৃহীত
ইন্দোনেশিয়ার সুন্দা প্রণালিতে অবস্থিত আনাক ক্রাকাতাও আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটেছে। আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ভারী ছাই ও ধেঁয়ার কারণে রাজধানী জাকার্তার প্রধান বিমান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কিছু এলাকার স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং সাগরে মাছ ধরা সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানয়েছে, রবিবার (৬ সেপ্টেমবর) জাকার্তার ‘সোকোর্নো-হাট্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’-এ অগ্ন্যুৎপাতের ছাই ছড়িয়ে পড়ায় ফ্লাইট কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। এর আগে স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত বিমান চলাচল বন্ধ রাখার কথা থাকলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় তা বাড়িয়ে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ফ্লাইট স্থগিতের এই সিদ্ধান্তের ফলে একাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইটসহ অন্তত ২০৯টি ফ্লাইটের সূচি বিপর্যস্ত হয়েছে।
দেশটির আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজি জানায়, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এই অগ্ন্যুৎপাতে ভয়াবহ ধোঁয়ার কুণ্ডলী তৈরি হয়। সুমাত্রা অঞ্চল ও বানতেন প্রদেশে প্রায় ৫০ হাজার ফুট (১৫ হাজার মিটার) উচ্চতা পর্যন্ত ধোঁয়ার ধোঁয়ার কুণ্ডলী এবং জাভা অংশে প্রায় ২০ হাজার ফুট উঁচুতে ছাইয়ের আস্তরণ দেখা গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা (বিএনপিবি) সর্বসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থার মুখপাত্র বার্তন প্যানজাইতান জানান, ছাইয়ের হাত থেকে বাঁচতে স্থানীয়দের মাস্ক ও চশমা ব্যবহার করা, বাইরের কাজকর্ম কমানো এবং খাবার পানির উৎস ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছৈ।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘কম্পাস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বায়ুমণ্ডলে ছাই ছড়িয়ে পড়ায় অনেক শিক্ষার্থী ও বাসিন্দা চোখে তীব্র জ্বালাপোড়ার সমস্যায় পড়েন। ফলে বেশ কয়েকটি স্কুল পাঠদান বাতিল করতে বাধ্য হয়। অন্যদিকে, সমুদ্র উত্তাল ও দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় জেলেরা সাগরে যাওয়া থেকে বিরত রয়েছেন।
যদিও কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, অগ্ন্যুৎপাতের কারণে তাৎক্ষণিক কোনো সুনামির ঝুঁকি নেই, তবুও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে আনাক ক্রাকাতাওয়ের অগ্ন্যুৎপাতে সৃষ্ট ভয়াবহ সুনামিতে জাভা ও সুমাত্রায় শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। ১৯৮৩ সালে মূল ‘ক্রাকাতোয়া’ আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ বিস্ফোরণে ৩৬ হাজারের বেশি মানুষ মারা যাওয়ার পর সাগরের বুক চিরে জন্ম নিয়েছিল এই ‘আনাক ক্রাকাতাও’।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স