২২টি যুদ্ধ শেষে আজ ১১ ডিসেম্বর মুক্ত হয়েছিল কুষ্টিয়া
২২টি যুদ্ধ শেষে আজ ১১ ডিসেম্বর মুক্ত হয়েছিল কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়াপ্রতিনিধি: ১৯৭১ সালের ১৬ এপ্রিল থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২২টি যুদ্ধ শেষে আজ ১১ ডিসেম্বর বৃহত্তর কুষ্টিয়া মুক্ত হয়েছিল। মুক্তিবাহিনী, ভারতীয় মিত্রবাহিনী কুষ্টিয়া শহর দখল নিতে কুষ্টিয়া শহরতলী চৌড়হাসে পৌছালে পাকিস্তান বাহিনীর এ্যাম্বুশে পড়ে। পরে ত্রিমুখী যুদ্ধে পড়ে পাকিস্তানবাহিনী পালিয়ে যায়। ১১ ডিসেম্বর কুষ্টিয়া মুক্ত হয়।
পাকিস্তান বাহিনীর অপারেশন সার্চ লাইটের আওতায় ২৫ মার্চ রাত সাড়ে ১১টায় যশোর থেকে পাকবাহিনী এসে কুষ্টিয়া দখল করে নেয় এবং এক নাগাড়ে ৩০ ঘন্টার জন্য সান্ধ্য আইন জারি করে সশস্ত্র অবস্থায় কুষ্টিয়া শহরে টহল দিতে থাকে। সান্ধ্য আইন ভেঙ্গে মুক্তিকামী মানুষ বেরিয়ে পড়ে রাস্তায়। তৈরি করে বেরিকেড। বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত মানুষ ইট-পাটকেল, কাটা গাছের গুড়ি, ঘরের চাল নিয়ে এসে সেনাবাহিনীর চলাচল বিঘœ করার উদ্দেশ্যে বেরিকেড তৈরি করে। সেনাবাহিনী সেগুলো সরিয়ে মারমুখী হয়ে যায়। পাকিস্তান বাহিনীর সাথে সাধারণ মানুষের শুরু হয় তুমুল যুদ্ধ। সে দিনের কথা আজও মনে পড়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুক্তিযোদ্ধাদের।
২৮ নভেম্বর জীবন নগর, ৭ ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা, ৮ডিসেম্বর দৌলতপুর, খোকসা, কুমারখালী এবং ৫ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া সদর উপজেলা বংশীতলাযুদ্ধসহ ২২টি যুদ্ধ শেষে মুক্তি ও মিত্রবাহিনী কুষ্টিয়া দখল নিতে আসছিল। ঠিক তখন ১০ ডিসেম্বর সকালে কুষ্টিয়া শহরের দক্ষিণে চৌড়হাস এই বিমান চত্বরে মেইন রাস্তার উপর পাক বাহিনীর অ্যাম্বুশে পড়ে তারা। শুরু হয় ত্রিমুখী যুদ্ধ। এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়। এখানে মিত্র বাহিনীর ৭০ জন শহীদ হন। ১০ ডিসেম্বর সন্ধ্যা পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেলার সমস্ত এলাকা স্বাধীন ও শত্রু মুক্ত হয়। ১১ ডিসেম্বর কুষ্টিয়া শহর, পোড়াদহ, মিরপুর, ভেড়ামারা এলাকা স্বাধীন শত্রু মুক্ত হয়। তাই এ দিন আনন্দের হলেও বেদনারও দিন। তবে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করছে কুষ্টিয়াবাসী।