পোশাক ছাড়া রফতানিতে দাঁড়াতে পারেনি অন্য খাত

পোশাক ছাড়া রফতানিতে দাঁড়াতে পারেনি অন্য খাত

ছবি: সংগৃহীত

দেশের রফতানি বাণিজ্যকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে সরকার ৪৩টি খাতে রফতানির বিপরীতে প্রণোদনা/নগদ সহায়তা দিয়ে আসছে। গত ১৪ বছরে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে মোট ৬২ হাজার ৫৫১ কোটি টাকা। তবে তৈরি পোশাক ছাড়া নগদ প্রণোদনার সুফল নেই বাকি খাতগুলোর রফতানিতে।

এদিকে স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এরই মধ্যে নগদ প্রণোদনার হার কমানো হয়েছে। গত জানিয়ারিতে দেওয়া সার্কুলারে প্রণোদনা কমানোর কারণ হিসেবে বলা হয়, ২০২৬ সালের নভেম্বরে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ ঘটতে যাচ্ছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বিধান অনুসারে তখন আর কোনো ধরনের রফতানি প্রণোদনা বা নগদ সহায়তা দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। রফতানি প্রণোদনা/নগদ সহায়তা একবারে তুলে নিলে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে রফতানি বাণিজ্য। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নগদ সহায়তার হার অল্প অল্প করে হ্রাস করতে সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

সে হিসাবে এলডিসিতে উত্তরণের কয়েক মাস আগেই অর্থাৎ ২০২৬ সালের জুলাইয়ে রফতানিতে দেওয়া নগদ প্রণোদনার পুরোটা প্রত্যাহার করে নেবে সরকার।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যান অনুসারে, গত ১৪ অর্থবছরে রফতানিতে তৈরি পোশাক তথা বস্ত্রখাতের অবদান ক্রমেই বেড়েছে। এর বিপরীতে দুর্বল হয়েছে বাকি খাতগুলোর অবদান। যদিও এ সময়ে সরকারের দেওয়া ভর্তুকির ৫৬ শতাংশই পেয়েছেন এসব খাতের উদ্যোক্তারা।

২০০৯-১০ অর্থবছরে রফতানিতে বস্ত্র খাতের অবদান ছিল ৭৭ দশমিক ১২ শতাংশ আর বস্ত্র-বহির্ভূত খাতের অবদান ছিল ২২ দশমিক ৮৮ শতাংশ। সর্বশেষ ২০২২-২৩ অর্থবছরে রফতানিতে বস্ত্র খাতের অবদান দাঁড়িয়েছে ৮৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং বস্ত্র-বহির্ভূত খাতের অবদান ছিল ১৫ দশমিক ৪২ শতাংশ।

বস্ত্র খাত গত ১৪ অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি ৩৫ হাজার ২১৭ কোটি টাকার নগদ প্রণোদনা পেয়েছে। আর চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত খাতটিতে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৯৬ কোটি টাকার।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, টাকার অবমূল্যায়নের কারণে বস্ত্র খাতের রফতানিকারকরা এরই মধ্যে নগদ প্রণোদনার চেয়েও বেশি প্রণোদনা পেয়েছেন। তবে অন্য খাতগুলো প্রণোদনা পেলেও সেভাবে রফতানি বাড়াতে পারেনি। ফলে নগদ প্রণোদনা কতটা কাজে এসেছে সে প্রশ্ন থেকেই যায়।

গণমাধ্যমকে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার বলেন, ২০২৬ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ যখন এলডিসি থেকে বেরিয়ে যাবে তখন আর রফতানিতে নগদ প্রণোদনা দেওয়া যাবে না। যদিও ডব্লিউটিওর পক্ষ থেকে যারা সদ্য এলডিসি থেকে উন্নীত হয়েছে তাদের ক্ষেত্রে কিছুটা সহানুভূতির দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করা হয়েছে। তবে অন্যান্য দেশ এ অনুরোধ না রাখলে কিছু করার নেই। তাই সামনের দিনগুলোয় তৈরি পোশাক-বহির্ভূত খাতের রফতানি বাড়াতে হলে আমাদেরকে ট্যারিফ কমাতে হবে। তা না হলে রফতানি বৈচিত্র্যকরণের লক্ষ্য অর্জিত হবে না। আমরা আশা করছি আগামী অর্থবছরের বাজেটে সরকার ট্যারিফ যৌক্তিকীকরণের উদ্যোগ নেবে।