এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ৪১.২৭ শতাংশ
ফাইল ছবি
দেশে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের প্রচার ও প্রসার প্রতিনিয়ত বাড়ছে। গত এক বছরে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে আমানতের চেয়ে ঋণ প্রদান বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিক (জানুয়ারি-মার্চ) শেষে এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্রের মাধ্যমে ঋণ বিতরণের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ৪১ দশমিক ২৭ শতাংশ বেড়েছে। মূলত ঋণ গ্রহণ এবং সঞ্চয়ের সহজ প্রক্রিয়া ও তুলনামূলক কম সুদের হারের কারণে এই প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
পাশাপাশি বেড়েছে আমানত, রেমিট্যান্স আহরণসহ সব ধরনের কার্যক্রম। আমানতের দ্বিগুণ বেড়েছে ঋণ বিতরণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, মূলত গ্রামীণ জনগোষ্ঠীই এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে আমানত রাখছেন। মার্চ প্রান্তিক শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে আমানত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা, যা ডিসেম্বর প্রান্তিকের চেয়ে ৫১১ কোটি টাকা বা ১ দশমিক ৪১ শতাংশ বেশি।
গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আমানত বেড়েছে ৫ হাজার ২২৮ কোটি টাকা বা ১৬ দশমিক ৫২ শতাংশ। একই সময়ে ঋণ বিতরণ বেড়েছে আরও বেশি। মার্চ প্রান্তিক শেষে ঋণ বিতরণে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ, আর গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪১ দশমিক ২৭ শতাংশ। এ সময় রেমিট্যান্স আহরণে প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
এখন পর্যন্ত ৩১টি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ব্যাংকগুলোর মোট এজেন্ট সংখ্যা ১৫ হাজার ৮৩৫, যা ২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে ছিল ১৫ হাজার ৭৫৭টি। অর্থাৎ তিন মাসে এজেন্ট সংখ্যা বেড়েছে ৭৮টি। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৪২৬টি। আউটলেট বেড়ে হয়েছে ২১ হাজার ৬১৩টি। এসব এজেন্টের ৮৬ ও আউটলেটের ৮৭ শতাংশই গ্রামে।
ব্যাংকের শাখা না থাকলেও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এখন দেশের মানুষ ব্যাংকিং সেবা পাচ্ছেন। পরিচালন ব্যয় কমাতে বর্তমানে ব্যাংকগুলো এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মতো বিকল্প সেবার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে। এতে গ্রামীণ মানুষ আরও বেশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারছেন।
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী এখন সহজেই ব্যাংকে টাকা জমা রাখতে পারছেন। প্রয়োজনে ঋণও মিলছে। রেমিট্যান্স সহজে পৌঁছে যাচ্ছে সুবিধাভোগীদের কাছে। এর মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা ছড়িয়ে পড়ছে গ্রামগঞ্জে। চাঙ্গা হচ্ছে প্রত্যন্ত এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য। ফলে শক্তিশালী হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, গ্রামীণ সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাংকিং সুবিধা পৌঁছে দিতে এজেন্ট ব্যাংকিং চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। ব্যাংকগুলো থেকে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। সঠিকভাবে পরিচালনা করলে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি ঘরে সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
এছাড়া এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সংগৃহীত আমানতের অর্থে সিংহভাগ গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগের সুযোগ করা গেলে তা গ্রামীণ অর্থনীতির চাকাকে আরও শক্তিশালী ও সচল রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন তারা।
২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর এজেন্ট ব্যাংকিং নীতিমালা জারির পর ২০১৪ সালে এ সেবা চালু করে ব্যাংক এশিয়া। এখন এ সেবায় শীর্ষে রয়েছে ডাচ-বাংলা ব্যাংক। এরপরের অবস্থান ব্যাংক এশিয়া এবং ইসলামী ব্যাংকের।