পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি পুতিনের
ফাইল ছবি।
ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে পশ্চিমাদের উত্তেজনা না বাড়ানোর সতর্কবার্তা দিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে মস্কো পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে কালিনিনগ্রাদ রক্ষা করবে।বৃহস্পতিবার মস্কোয় ভালদাই ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় পুতিন এই কথা বলেন। তিনি জানান, ইউরোপীয় কোনও দেশকে আক্রমণ করার কোনও পরিকল্পনা রাশিয়ার নেই এবং তারা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চায়। তবে কালিনিনগ্রাদ বা রাশিয়ার অন্য কোনও ভূখণ্ড সরাসরি হামলার শিকার হলে মস্কো তার অস্ত্রাগারের সব অস্ত্র ব্যবহার করবে বলে জোর দিয়ে উল্লেখ করেন।
পুতিন বলেন, রাশিয়ার ওপর সরাসরি হামলা হলে বিশেষ করে কালিনিনগ্রাদ বা অন্য কোনও ভূখণ্ডে তাহলে রাশিয়ার হাতে থাকা সব অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি অনিবার্যভাবে এবং তাৎক্ষণিকভাবে আলোচনায় আসবে। তিনি আরও যোগ করেন, ‘এটি অনিবার্য’।
রাশিয়ার সর্বপশ্চিমের ভূখণ্ড কালিনিনগ্রাদ ন্যাটো সদস্য পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মাঝে অবস্থিত এবং এটি ব্যাপকভাবে সামরিকীকৃত। পুতিন বলেন, ন্যাটো রাশিয়ার তুলনায় ‘দ্বিগুণ বড়’- এ বিষয়টি মস্কো জানে এবং কোনও সংঘাত হলে জোটটিকে তার সামরিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করতে হবে।
ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের পারমাণবিক সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাশিয়া সে সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন। তবে মস্কোর এমন অস্ত্র রয়েছে যা তাদের একটি ‘প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা’ দেয়।
পুতিনের এই মন্তব্যের আগে ন্যাটো জানায়, কালিনিনগ্রাদ বিচ্ছিন্ন করার কোনও চেষ্টা করা হলে রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে প্রস্তুত এমন একটি কূটনৈতিক নোট মস্কো থেকে পেয়েছে তারা। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, জোটটি এর জবাবে জানিয়েছে, ন্যাটো প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে এবং পারমাণবিক হুমকি কোনোভাবেই সহায়ক নয়।
২০২২ সালে ইউক্রেনে সর্বাত্মক আক্রমণ শুরুর পর থেকে রাশিয়া ও পশ্চিমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত টানাপোড়েনপূর্ণ রয়েছে। ইউরোপীয় সরকারগুলো রাশিয়ার বিরুদ্ধে নাশকতা ও অগ্নিসংযোগের মতো তথাকথিত ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ তীব্র করার অভিযোগও তুলেছে। তবে মস্কো এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং ন্যাটো দেশকে আক্রমণ করার দাবি নাকচ করে দিয়েছে।
পুতিন সতর্ক করে দিয়ে বলেন, চলমান উত্তেজনা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যেখান থেকে আর ফিরে যাওয়ার কোনও উপায় থাকবে না। তিনি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে যে এমন একটি মুহূর্ত খুব দ্রুত এবং অপ্রত্যাশিতভাবে আসতে পারে যখন আর কিছুই পরিবর্তন করা যাবে না’।
ক্রমবর্ধমান গুরুতর প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা একটি ‘মারাত্মক প্রত্যাবর্তনের অযোগ্য বিন্দুতে’ নিয়ে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলোর ধ্বংসাত্মক ক্ষমতার কথা তুলে ধরে তিনি সরকারগুলোকে এমন পরিস্থিতি এড়ানোর আহ্বান জানান যাতে ওই ধরনের অস্ত্র ব্যবহার না হতে পারে। এছাড়া পূর্বনির্ধারিত যথাযথ এজেন্ডায় সম্মত হলে তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ত্রিমুখী বৈঠকে বসতেও প্রস্তুত বলে জানান।
ইউক্রেন প্রসঙ্গে পুতিন কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে ইউক্রেনীয় লক্ষ্যবস্তুতে রুশ হামলা বন্ধ করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি স্বীকার করেন যে রাশিয়ান তেল শোধনাগারের ওপর ইউক্রেনীয় হামলায় রাশিয়ার জিডিপির প্রায় ১ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে এবং মস্কো এর উপযুক্ত জবাব দিচ্ছে।
রাশিয়ার ভেতরে ইউক্রেনের হামলায় পশ্চিমা সমর্থনের সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করার পাশাপাশি পুতিন বলেন, ইউক্রেনকে সরবরাহকারী ইউরোপীয় অস্ত্র কারখানাগুলোতে ‘আগামীকালই’ হামলা চালানোর কোনও পরিকল্পনা মস্কোর নেই।