বড়াইগ্রামে পাশের বাড়ির টয়লেট মিলল যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ
প্রতীকী ছবি।
নাটোরের বড়াইগ্রামে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর পাশের বাড়ির নির্মাণাধীন টয়লেট থেকে শফিকুল ইসলাম খাঁ ওরফে শফিক (৩৬) নামে এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার বনপাড়া পৌর শহরের কালিকাপুর খাসপাড়া এলাকায় ডিশ ব্যবসায়ী মামুন শেখের নির্মাণাধীন বাড়ির টয়লেট থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত শফিক ওই এলাকার মৃত শহীদুল ইসলামের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের দাবি, মাদকদ্রব্য কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষরা শফিককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে পাশের বাড়ির নির্মাণাধীন টয়লেটের ভেতরে মরদেহ ফেলে রাখে।
নিহত শফিকের বড় ভাই জাকির খাঁ জানান, গত বৃহস্পতিবার সকালে হেরোইন কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে শফিককে খুঁজতে একই এলাকার পিচ্চি শাজাহানের ছেলে সোহেল, সোহেলের মা সাজেদা বেগম সাজু, খালা ও এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মাজেদা বেগম মাজু, সোহেলের বোন সুমী খাতুন এবং সোহেলের ছেলে সোহাগ শফিকের বাড়িতে আসেন। এ সময় শফিককে না পেয়ে তারা তার মা জাহেরা বেগমকে মারধর করেন। এরপর থেকে শফিককে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
নিহত শফিকের চাচি মেহেরুন্নেছা জানান, শফিকের মোবাইল ফোনটি অপর এক মাদক ব্যবসায়ী রাকিবের কাছে পাওয়া গেছে। তিনি আরও জানান, শফিকের মুখমণ্ডল ও বুকের অংশ পুড়ে যাওয়ার মতো ঝলসানো ছিল। টয়লেটের ভেতরে খালি গায়ে উপুড় হয়ে মরদেহটি পড়ে ছিল। পরনে ছিল ফুলপ্যান্ট এবং পায়ের জুতা খোলা অবস্থায় ছিল।
মেহেরুন্নেছার দাবি, শফিককে মারধর করে জোরপূর্বক বিষাক্ত কোনো পদার্থ খাইয়ে এবং শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে জড়িতদের বিচার দাবি করেন।
নিহত শফিকের মা জাহেরা বেগম বলেন, “আমার ছেলেকে নির্মমভাবে মেরে ফেলেছে সোহেলেরা, তার মা ও খালারা। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।”
শফিকের বড় ভাই জাকির খাঁ জানান, এ ঘটনায় শিগগিরই বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করা হবে।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। এরপর আইনগত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।