তালা-চুলা বারবার পরীক্ষা করছেন? যে ৮ লক্ষণে থেরাপিস্টের পরামর্শ জরুরি

তালা-চুলা বারবার পরীক্ষা করছেন? যে ৮ লক্ষণে থেরাপিস্টের পরামর্শ জরুরি

ফাইল ছবি

বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে দরজা-জানালা ঠিকমতো বন্ধ হয়েছে কি না, চুলা বন্ধ আছে কি না—একবার দেখে নেওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু একই বিষয় বারবার পরীক্ষা করেও যদি মনে হয় ঠিকমতো নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না, তাহলে বিষয়টি খেয়াল করার মতো হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ সতর্কতা আর বাধ্যতামূলকভাবে বারবার পরীক্ষা করার অভ্যাস এক বিষয় নয়। বারবার পরীক্ষা করার তাগিদ যদি দৈনন্দিন জীবনে অস্বস্তি তৈরি করে বা স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত করে, তখন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

স্বাভাবিক পরীক্ষা আর বাধ্যতামূলক আচরণের পার্থক্য

ওসিডি বিশেষজ্ঞ থেরাপিস্ট ও পুনর্বাসন মনোবিজ্ঞানী শ্যাম গুপ্তের মতে, স্বাভাবিকভাবে কিছু পরীক্ষা করার পর মানুষের মনে ‘কাজটি হয়ে গেছে’—এমন একটি নিশ্চয়তা তৈরি হয়।

কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে আর ভাবতে হয় না।

কিন্তু বাধ্যতামূলকভাবে পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে তালা ঠিকমতো লাগানো বা চুলা বন্ধ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরও সন্দেহ ফিরে আসে। তখন মানুষ আবার পরীক্ষা করেন, কিছু সময়ের জন্য স্বস্তি পেলেও পরে আবার একই তাগিদ তৈরি হয়।

কখন বিষয়টি নিয়ে সতর্ক হবেন?

শুধু একটি অভ্যাস দেখেই কারও ওসিডি আছে কি না, তা বলা যায় না।

তবে নিচের লক্ষণগুলো থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা যেতে পারে—

১. অতিরিক্ত সময় ব্যয় হওয়া: পরীক্ষা করা, আবার পরীক্ষা করা বা বিষয়টি নিয়ে মনে মনে ভাবতে প্রতিদিন এক ঘণ্টার বেশি সময় চলে যাচ্ছে।

২. বারবার ফিরে যাওয়া: বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তালা দেখতে ফিরে আসা বা রাতে ঘুম থেকে উঠে আগে পরীক্ষা করা বিষয় আবার দেখতে যাওয়া।

৩. সন্দেহ কাটছে না: তালা বা অন্য কোনো জিনিস ভালোভাবে পরীক্ষা করার পরও মনে হচ্ছে, ঠিক হয়েছে কি না নিশ্চিত নন।

৪. ভয় থেকে পরীক্ষা করা: পরীক্ষা না করলে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটবে এবং এর জন্য নিজেকেই দায়ী হতে হবে—এমন ভয় তৈরি হওয়া।

৫. নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে পরীক্ষা করা: নির্দিষ্টসংখ্যক বার ঘোরানো, স্পর্শ করা বা বিশেষ কোনো ক্রম অনুসরণ না করলে কাজটি সম্পূর্ণ হয়েছে বলে মনে না হওয়া।

৬. অন্যের কাছ থেকে বারবার নিশ্চয়তা চাওয়া: একই বিষয় নিয়ে পরিবারের সদস্যদের বারবার জিজ্ঞেস করা—‘তালা লাগিয়েছ তো?’ বা কাউকে দিয়ে আবার পরীক্ষা করানো।

৭. দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হওয়া: এই অভ্যাসের কারণে কাজে দেরি হওয়া, ঘুমের সমস্যা তৈরি হওয়া বা পরিবারের সঙ্গে বিরোধ হওয়া।

৮. থামাতে গেলে তীব্র অস্বস্তি: নিজেরও মনে হচ্ছে অভ্যাসটি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি, কিন্তু বন্ধ করতে গেলে অতিরিক্ত উদ্বেগ বা অস্থিরতা তৈরি হওয়া।

কীভাবে চিকিৎসা করা হয়?

ওসিডির ক্ষেত্রে এক ধরনের কার্যকর চিকিৎসা হলো এক্সপোজার অ্যান্ড রেসপন্স প্রিভেনশন (ERP)। এটি কগনিটিভ বিহেভিয়োরাল থেরাপির একটি পদ্ধতি।

বিশেষজ্ঞের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, উদাহরণ হিসেবে দরজা একবার ভালোভাবে লক করে সেটি লক্ষ্য করে তারপর আর ফিরে না আসার অনুশীলন করা যেতে পারে। শুরুতে উদ্বেগ বাড়তে পারে, তবে ধীরে ধীরে সেই অস্বস্তি কমে আসার অভিজ্ঞতা তৈরি হয়।

পরিবারের সদস্যদেরও বারবার নিশ্চয়তা দেওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে কারও ক্ষেত্রে এমন আচরণ দেখা গেলে নিজে থেকে ওসিডি ধরে নেওয়ার বদলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।