যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ, দিল্লিতে মেট্রো ও রেল চলাচলে বিধিনিষেধ
ছবি: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের প্রধানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।এর অংশ হিসেবে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত ৯টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শহরের ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।
শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি ও অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা)। বিক্ষোভে কয়েকটি বিরোধী দলের নেতাকর্মীরাও যোগ দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সম্ভাব্য ভিড় ও যানজটের আশঙ্কায় নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন রেলস্টেশনে রেল চলাচলও বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিক্ষোভ সামাল দিতে দিল্লি পুলিশ বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর মধ্যে অ্যাপভিত্তিক ট্যাক্সি চলাচলে নিয়ন্ত্রণ, আটক ব্যক্তিদের রাখার জন্য অস্থায়ী কেন্দ্র তৈরি এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের উদ্যোগ রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারায় জারি করা নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৮ থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত দিল্লি পুলিশের সহায়তায় কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ২২১টি কোম্পানি মোতায়েনের ব্যবস্থা করেছে। এসব বাহিনীতে প্রায় ২৩ হাজার সদস্য রয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচটি নারী সদস্যদের নিয়ে গঠিত আধা সামরিক বাহিনীর কোম্পানিও থাকবে। এ জন্য জম্মু-কাশ্মীর, পশ্চিমবঙ্গ ও ছত্তিশগড় থেকে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের আনা হচ্ছে।
এ ছাড়া, বিক্ষোভের সময় আটক ব্যক্তিদের রাখার জন্য দিল্লির বিভিন্ন জেলায় প্রায় ১০টি অস্থায়ী আটককেন্দ্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। এসব কেন্দ্রের মধ্যে বাওয়ানার রাজীব গান্ধী স্টেডিয়াম ও ছত্রসাল স্টেডিয়াম রয়েছে। উত্তর-পশ্চিম দিল্লি, পূর্ব দিল্লি ও নরেলাতেও এ ধরনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
দিল্লিতে প্রবেশের বিভিন্ন পথেও কড়া নজরদারি চালাবে পুলিশ। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিক্ষোভে অংশ নিতে লোকজনকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছেন—এমন সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শহরের প্রবেশপথেই আটকে দেওয়া বা আটক করা হতে পারে।