১৬ দিনের আন্তর্জাতিক বিরতিতে ক্ষুব্ধ ইউরোপের দেশগুলো

১৬ দিনের আন্তর্জাতিক বিরতিতে ক্ষুব্ধ ইউরোপের দেশগুলো

ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার কাছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নতুন চার ম্যাচের দীর্ঘ উইন্ডো নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সদস্য দেশগুলোর ফুটবল ফেডারেশনগুলো। চলতি সপ্তাহে শেষ হওয়া এই ১৬ দিনের দীর্ঘ উইন্ডোতে কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো তারকা ফুটবলাররা চোট পেয়ে একাধিক ম্যাচ মিস করেছেন, নরওয়ের হয়ে চতুর্থ ম্যাচে নিজেকে তুলে নেওয়ার অনুরোধ করেছেন আরলিং হালান্ড, এবং ছোট দেশগুলোর সম্পদ ও কোচিং স্টাফদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

বার্লিনে উয়েফার একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা এই চার ম্যাচের উইন্ডোকে "মহাবিপর্যয়" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আগে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে আলাদা দুটি দুই ম্যাচের আন্তর্জাতিক বিরতি দেওয়া হলেও, নতুন নিয়মে দুটিকে এক করে ১৬ দিনের ব্লক তৈরি করা হয়েছে। উয়েফা জানিয়েছে, ২০৩০ সাল পর্যন্ত ফিফা ক্যালেন্ডারে এই চার ম্যাচের উইন্ডো নির্ধারিত থাকলেও তারা সদস্য দেশগুলোর মতামত সংগ্রহ করে ফিফার কাছে পেশ করবে।

লিগ মরসুমে ঘনঘন ব্যাঘাত এবং দূরদূরান্ত ভ্রমণের চাপ কমাতে ইউরোপীয় ক্লাবগুলো দীর্ঘদিন ধরেই দীর্ঘমেয়াদি একটি একক বিরতির দাবি জানিয়ে আসছিল। তবে টানা তিন সপ্তাহের এই বিরতি ক্লাব কোচদের জন্য নতুন সমস্যা তৈরি করেছে। বোরুসিয়া ডটমুন্ডের কোচ নিকো কোভাচ জানান, "এখন শুধু যে খেলোয়াড়রা চোট নিয়ে ফিরছে তা-ই নয়, বরং আড়াই সপ্তাহ ধরে ক্লাব ফুটবলের সব ছন্দ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমাদের আবার নতুন করে সবকিছু শুরু করতে হচ্ছে।"

৪৮ দলের দীর্ঘতম বিশ্বকাপের পর টানা চার ম্যাচের এই বিরতি খেলোয়াড়দের শারীরিক সামর্থ্যের ওপর প্রচণ্ড প্রভাব ফেলছে। পর্তুগালের বিপক্ষে হারের ম্যাচে হালান্ডকে তুলে নেওয়ার পর নরওয়ের কোচ স্টালে সোলবাকেন জানান, যারা চোটের ঝুঁকি এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ব্যস্ত সূচির মধ্যে রয়েছে তাদের জন্য এই উইন্ডোটি অত্যন্ত কঠিন। সামনেই ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে লিভারপুল ও পিএসজির মতো হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ রয়েছে হালান্ডের।

অন্যদিকে ফিফার দাবি, এই দীর্ঘ বিরতির ফলে ইউরোপের বাইরে আঞ্চলিক টুর্নামেন্ট (যেমন সৌদি আরবে আয়োজিত অ্যারাবিয়ান গালফ কাপ) আয়োজন করা সহজ হয়েছে। ২০২১ সালে প্রতি দুই বছর পর পর বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তাবের সময়ই আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারে এই পরিবর্তনের রূপরেখা দিয়েছিল ফিফা।

বার্লিনের এই উয়েফা বৈঠকে ৫৫টি সদস্য দেশের মধ্যে একমাত্র আজারবাইজানই ফিফার এই ক্যালেন্ডার ব্যবস্থাপনার পক্ষে কথা বলেছে। উয়েফা অঞ্চলের জাতীয় দলগুলো আগামী ৯ নভেম্বর থেকে উয়েফা নেশনস লিগের গ্রুপ পর্বের শেষ দুটি ম্যাচ খেলতে পুনরায় একত্রিত হবে।