২৪ ঘণ্টায় ১৪০০ হুথি যোদ্ধাকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করার দাবি ইয়েমেন সরকারের
সংগৃহীত ছবি
ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর দাবি করেছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দেশটির সরকার। গত ২৪ ঘণ্টায় হুথিদের লক্ষ্য করে ২ হাজার ৭৫০টিরও বেশি নিখুঁত হামলা চালানো হয়েছে। এতে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি হুথি যোদ্ধাকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।
সোমবার ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সাবার বরাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজিদ আল-নুজাইলি এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘ডন অব ইয়েমেন’ নামের সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ভূখণ্ডের গভীরে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালানো হয়েছে।
আল-নুজাইলির দাবি, অভিযানে স্থলবাহিনী হুথিদের প্রতিরক্ষা ব্যূহ ভেঙে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অবস্থান পুনর্দখল করেছে। একইসঙ্গে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এলাকাগুলো সুরক্ষিত করে পূর্বনির্ধারিত সামরিক পরিকল্পনা অনুযায়ী অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী।
রবিবার ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযান শুরুর ঘোষণা দেয় ইয়েমেন সরকার। হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকা পুনরুদ্ধার করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিনের সংঘাতে দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চল হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এসব এলাকা পুনর্দখলে সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্রদের সামরিক তৎপরতা নতুন করে জোরদার হয়েছে।
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর দাবি, এবারের অভিযানে শুধু সামনের সারির যোদ্ধাদের অবস্থান নয়, হুথিদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম ও স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এতে বিদ্রোহীদের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার পাশাপাশি সরকারি বাহিনীর অগ্রযাত্রার পথ সুগম হবে বলে আশা করছে সরকার।
ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে ক্ষমতা এবং ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই অব্যাহত রয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুথিরা দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করায় সংঘাতের আঞ্চলিক প্রভাবও রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযানে সরকারি বাহিনী কতটা ভূখণ্ড পুনর্দখল করতে পারে, তার ওপর সংঘাতের পরবর্তী গতিপথ অনেকাংশে নির্ভর করবে। তবে সামরিক অভিযান জোরদার হওয়ার ফলে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও বাড়তে পারে।
তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা