প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রানে অলআউট বাংলাদেশ
ছবিঃ সংগৃহীত
দ্বিতীয় দিন বোর্ডে নতুন করে ২৯ রান যোগ করতেই অলআউট হয়ে গেছে বাংলাদেশ। ফলে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩৪৬ রান।
শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হয়েছেন এবাদত হোসেন। ৭ বল খেলেও রানের খাতা খুলতে পারেননি তিনি।
ইয়ামিন আহমাদজাইয়ের ধীরগতির বলে আউট হন এবাদত। মিডল-লেগ স্টাম্পে পড়া ফুলার লেংথের বলটি খেলতে গিয়ে ব্যাটের পুরো মুখ বলের লাইনের ভেতরে অস্বস্তিকরভাবে নিয়ে আসেন এবাদত। ব্যাট ও প্যাডের মাঝে তৈরি হয় বড় ফাঁক। ব্যাটের বাইরের অংশে লেগে বলটি চলে যায় পয়েন্টে। সেখানকার ফিল্ডার সামনের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিরাপদে ক্যাচটি তালুবন্দি করেন। লেগ সাইডে ফ্লিক করতে গিয়ে ব্যাটের এজে লেগে ক্যাচ চলে যায় পয়েন্টে থাকা ফিল্ডারের হাতে।
৮ উইকেটে ৩১৭ রান নিয়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় দিনের ব্যাটিং শুরু করেন নাঈম হাসান ও তাইজুল ইসলাম। প্রথম বিদায় নেন তাইজুল। মোহাম্মদ সেলিমের লেগ স্টাম্প দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া বল পুল করতে গিয়ে ব্যর্থ হন তিনি, বল গিয়ে জমা হয় উইকেটকিপারের গ্লাভসে। বোলারের আবেদনে আম্পায়ার সাড়া দেননি। পরে রিভিউ নেয় আফগানিস্তান। সেখানে দেখা যায় তাইজুলের গ্লাভস স্পর্শ করেছে বল। ফলে সিদ্ধান্ত বদলায় আম্পায়ার। ৯ রান করে তাইজুল ফিরলে ৩৩৫ রানে ৯ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
আফগানিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট পেয়েছেন মোহাম্মদ সেলিম। ৩টি ইয়ামিন, ২টি ইসমত। একটি কাইস আহমেদ।
এর আগে, প্রথম দিন উদ্বোধনী জুটিতে ১২৪ রান যোগ করেন তানজিদ হাসান তামিম ও সাদমান ইসলাম। টেস্ট হলেও দ্রুতগতিতে রান তোলার চেষ্টা করেন তামিম। ৪১ বলে ফিফটি তুলে নেওয়ার পরও খেলছিলেন সেই একই মেজাজেই। কিন্তু খেই হারান ৮৩ রানের সময়। ১২৪ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ তামিমের বিদায়ে।
ইসমত আলমের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তানজিদ। দারণ ক্যাচ বেব আফগান উইকেটকিপার ইকরাম আলিখিল।
এরপর ফিফটি আদায় করে নিলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি সাদমান ইসলাম। ৬৭ রান করার পর সেলিমের বলে বাউন্সারে পরাস্ত হয়েছেন। পুল করতে গিয়ে স্কয়ার লেগে ফিল্ডার জিয়া-উর-রহমানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। তার বিদায়ে ১৮৪ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
এরপর নামে বাংলাদেশের ইনিংসে ধস। ৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চা-বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। ভালো খেলতে থাকা মুমিনুল হাক জাগান অর্ধশতকের সম্ভাবনা। কিতু ৩৯ রান করে উইকেট বিলিয়ে দেন ইয়ামিনের বলে। অফ স্টাম্প বরাবর লেংথ বলটি পেয়ে এক পা এগিয়ে ড্রাইভ করতে যান মুমিনুল। তবে ব্যাটে লেগে বল উড়ে যায় শর্ট কভারের দিকে। সেখানে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন রহমত। ২২১ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের পর থেকে ৭ ইনিংসে কোনো ফিফটি নেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে চলমান টেস্টের প্রথম ইনিংসসহ। এই ইনিংসে তো রানের খাতাই খুলতে পারেননি। ৭ বলে ০ রান করে বোল্ড হয়ে মুশফিক ফিরে যান সাজঘরে। ইয়ামিনের দুর্দান্ত ইনসুইং ইয়র্কারে পুরোপুরি বোকা বনে গেলেন অভিজ্ঞ ব্যাটার। ব্যাট নামানোর আগেই ভেঙে গেছে স্টাম্প। ২২৩ রানে ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
এর পরপরই ফিরে গেছেন নাজমুল হোসেন শান্তও। ২৯ রান করেছেন তিনি সাজঘরে ফেরার আগে। প্রথমে মুশফিকের বিদায়ে ২২৩ রানে চতুর্থ উইকেট হারানোর পর ২২৫ রানে চতুর্থ ইউকেট পতন হয় বাংলাদেশের। এরপর শান্তও বিদায় নিলে ৫ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
চা-বিরতির আগে ৫ রানে দ্রুত ৩ উইকেট হারিয়ে ২২৫ রানে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সেই ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন লিটন কুমার দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ। কিন্তু ৬২ রানের জুটি ভেঙেছে মিরাজের বিদায়ে।
২৪ রান করে ইসমত আলমের বলে বোল্ড হয়েছেন মিরাজ। তার বিদায়ে ২৮৭ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ।
ইসমতের দ্রুতগতির বল মিরাজের স্টাম্প ভেঙে দেয়। কটু খাটো লেংথের বলটি সামান্য ভেতরে ঢুকে আসে। কাট করতে গিয়ে ব্যাটে ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি মিরাজ। দুর্বল শটে বল লেগে যায় স্টাম্পে। দারুণ পরিকল্পনায় উইকেটটি তুলে নিলো আফগানিস্তান। শেষ ৩০ মিনিট ধরে বাংলাদেশের ব্যাটারদের ওপর প্রচন্ড চাপ তৈরি করেছিল তারা, এবার মিললো তার পুরস্কার।
ক্যারিয়ারের ২১তম ফিফটি আদায় করে ভালো কিছুর আশা জাগিয়েছিলেন লিটন কুমার দাস কিন্তু ফিফটি করেই আউট হয়ে গেছেন তিনি। তাঁর বিদায়ে ৩০৩ রানে সপ্তম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। মোহাম্মদ সেলিমের শর্ট বলে হুক করতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনেন লিটন। ডিপ স্কয়ার লেগে বাঁ দিকে দ্রুত ছুটে গিয়ে দুর্দান্ত এক ডাইভিং ক্যাচ নেন ইয়ামিন।
অষ্টম ব্যাটার হিসেবে দলীয় ৩০৫ রানে আউট হন ২ রান করা হাসান মাহমুদ। মোহাম্মদ সেলিম ফেরান তাকেও। বিধ্বংসী এক ইয়র্কারে পরাস্ত হন তিনি। ব্যাট নামানো আগেই বল গিয়ে আঘাত হানে তার স্টাম্পে।