অটোরিকশায় তুলে গরু চুরির চেষ্টা, দুই নারী আটক
প্রতিকি ছবি
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে গরু চুরির চেষ্টার অভিযোগে পারভিন আক্তার (৪৫) ও শাহানা আক্তার (৪০) নামে দুই নারীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা। সকাল ১১টার দিকে উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এসময় তাদের সাথে থাকা আরো দুই চোর পালিয়ে যায়। আটককৃত পারভিন কক্সবাজারের কুতুবদিয়া এবং শাহানা চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিজয় মল্লিক নামে এক স্থানীয় বাসিন্দার গরুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এমন খবর পেয়ে ধাওয়া করে বেলতল এলাকায় গরুসহ দুই নারীকে আটক করেন স্থানীয়রা। তবে এসময় অটোরিকশার চালকসহ আরও একজন পালিয়ে যায়।
পটিয়া থানার ওসি জিয়াউল হক জানান, স্থানীয়রা ওই দুই নারীকে আটক করে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে আসে। প্রাথমিকভাবে তাদের গরু চুরির সাথে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। যে গরুটি তারা চুরি করতে চেয়েচিলো সেটি মালিকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই চক্রের সাথে জড়িত বাকীদের ধরতেও পুলিশ কাজ করছে
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর বাজারে অনুমোদনহীন ও মানহীন প্রসাধনী বিক্রির দায়ে দুটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রবিবার (১১ অক্টোবর) উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কাঁচপুর বাজারের বিভিন্ন বিপণিবিতানে বিক্রির জন্য রাখা প্রসাধনসামগ্রীর মোড়কে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও আমদানিকারকের নাম-ঠিকানা, উপাদানের বিবরণ এবং ব্যবহারের প্রয়োজনীয় সতর্কবার্তাসহ বিভিন্ন তথ্যের ঘাটতি পাওয়া যায়। স্কিন ক্রিম, ফর্সাকারী ক্রিম, লিপস্টিক ও বেবি পাউডারসহ বিভিন্ন প্রসাধনী পণ্যে এসব অনিয়ম শনাক্ত করা হয়।
পণ্যের মান, বৈধতা ও প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই শেষে ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮ অনুযায়ী পৃথক দুটি মামলায় প্রতিষ্ঠান দুটিকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মামুন সরকার। অভিযানে বিএসটিআইয়ের নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের ফিল্ড অফিসার ইয়াসির আরাফাত প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করে কাঁচপুর পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল।
অভিযান শেষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মামুন সরকার বলেন, অননুমোদিত ও মানহীন প্রসাধনী মানুষের ত্বক ও স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ব্যবহার্য পণ্য ও ত্বকে সরাসরি প্রয়োগ করা ক্রিমের ক্ষেত্রে গুণগত মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। ভোক্তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও বাজারে পণ্যের মান বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।
এদিকে, প্রশাসনের এ অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সচেতন ক্রেতা ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, প্রসাধনীর নামে অনিরাপদ ও অনুমোদনহীন পণ্য বিক্রি বন্ধে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রসাধনী কেনার আগে মোড়কে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচয়, উপাদান, মেয়াদ ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা জরুরি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাজারে ভেজাল, মানহীন ও অননুমোদিত পণ্যের বিস্তার রোধে প্রশাসনিক নজরদারির পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা এবং ক্রেতাদের সচেতনতাও প্রয়োজন।